হোম / অপরাধ
অপরাধ

কচাকাটার নারায়ণপুরে রাতের অন্ধাকারে  সার পাচার : দায়  নিচ্ছে না প্রশাসন

প্রকাশ: 14 September 2026, 12:06 AM পড়া হয়েছে: ৪৩ বার

 

স্টাফ রিপোর্টার

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারয়াণপুর ইউনিয়ন থেকে গঙ্গাধর নদী দিয়ে গভির রাতে নৌকা যোগে ৩৯ বস্তা সার পাচারের সময় আটক  করে স্থানীয় জনতা। সার পাচার ও আটকের বিষয়ে কোন দায় নিচ্ছে না প্রশাসন। 

সার পাচার ও আটকের ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর)দিবাগত রাত ১টার দিকে। নারায়নপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের আউয়ালের ঘাট এলাকায়।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে একটি নৌকা যোগে সার নিয়ে যাওয়া খবর পেয়ে নৌকাটি আটকানো হয়।এসময় নৌকায় ৩৯ বস্তা (১৯৫০ কেজি) সার পাওয়া যায়।পরে সারগুলো স্থানীয়রা জব্দ করে স্থানীয় নেতা ফরিদুল জোয়ারদারের জিম্মায় জমা রাখা হয়। 

এময় নৌকার মাঝি আনিসুর রহমান জানান,নারায়ণপুরের ব্যবসায়ী মোস্তফা মোল্লার কাছ থেকে ১৭শ টাকা বস্তা দরে এই সার কিনে নিয়েছে বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ বাজারের তেল বীজ ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন। তারা শুধু পরিবহন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় মোস্তফা মোল্লা স্থানীয় ডিলারের খুচরা বিক্রয় প্রতিনিধি। 

স্থানীয়দের অভিযোগ তারা সারা পান না। অথচ  চোরাই বাজারে চরা মূল্যে পর্যা্প্ত সার পাওয়া যায়। সেসব সার এভাবেই পাচার হয়ে যায়।

স্থানীয় নেতা ফরিদুল জোয়ারদার জনান, রাতে নৌকায় পাচার কালে ৩৯ বস্তা সার আটক করা হয়। সেগুলো আমার পাশের বাড়িতে জমা রাখা হয়। সকালে (রবিবার) স্থানীয় কৃষকদের তালিকা করে সরকারী দামে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। সার বিক্রির টাকা কে পাবে প্রশ্নে জানান, যার সার সে (আলতাফ)পাবে। এ বিষয়ে  উপসকারী কৃষি কর্মকর্তা অবগত আছেন বেলে তিনি জানান।

আলতাফ এতগুলো সার কোথায় পেল জানতে চাইলে তিনি জানান, সার কোথায় পেল তা জানিনা। তবে এই সারের চালান বা রশিদ পাননি তারা। এই সার অবৈধ উপায়ে নিয়ে আসা হয়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি জানান, অবশ্যই অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ ও বিক্রির উদ্দেশ্য ছিলো।

নারায়ণপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, মোস্তফা মোল্লা সাব ডিলার। তিনি আলতাফ হোসেনের সুমুন্দিয়া ( স্ত্রীর বড় ভাই। আলতাফ হোসেন মোস্তফার মাধ্যমে এই সার নিয়ে আসছে। এগুলো আমাদের  বরাদ্দের সার না। যাত্রাপুর থেকে নিয়ে এসেছে। সেই সার স্থানীয়দের প্রয়োজন আছে বলে তারা আটক করেছে। আটক সার সকালে (রবিবার) স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করে দিয়েছে বলে শুনেছি।

অভিযুক্ত আলতাফ হোসেন এই সার তার স্বীকার করে জানান,এখন কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করছি। এ বিষয়ে সকল বিস্তারিত পরে জানাবে বলে ফোন রেখে দেন। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন এ সারের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি জানান, এ সার তাদের হিসাবের না এবং আলতাফ ডিলার বা সাব ডিলার না। তিনি হয়তো কৃষকদের নিকট থেকে  এই সার ক্রয় করেছেন। 

কৃষকরা যেখানে সার পায়না সেখানে কিভাবে বিক্রি করবে? এই প্রশ্নের কোন জবাব দেননি তিনি। তবে এতগুলো সার একজন ব্যবসায়ি কোথা থেকে এবং কেন সংগ্রহ করলো সে বিষয়ে অনুসন্ধান করবেন বলে জানান তিনি।

যেখানে সার পাচ্ছে না কৃষক,সার নিতে গিয়ে আসামী হচ্ছে সাধারণ কৃষক আর রাতের আধারে সার পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিবেন প্রশাসন এটাই দেখার অপেক্ষা করছে সচেতন মহল।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!