ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাই প্রসাধনী সামগ্রী ও বাসুমতি চাল জব্দ করা হয়েছে। শনিবার ভুরুঙ্গামারী সদর উপজেলার মহিলা ডিগ্রি কলেজের পেছনের একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য উদ্ধার করে পুলিশ।
ভুরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোঃ মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশের একটি অভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রায় ৩৫ প্রকারের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী এবং প্রায় ৩০০ কেজি ভারতীয় বাসুমতি চাল জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের পিছনে মৃত লোকমান হোসেনের পুত্র আজাদ আলী মন্ডল ও চায়না বেগম দম্পতির বাসাটি ভাড়া নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় প্রসাধনী ও বাসুমতি চাল মজুদ এবং বিপণন করে আসছিল। চক্রটি কুড়িগ্রাম সদরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হলেও ভুরুঙ্গামারী থানার ভোটহাট ও কচাকাটা থানার মাদারগঞ্জ এবং নারায়ণপুর সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে এসব পণ্য অবৈধভাবে দেশে এনে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতো।
দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারির পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জব্দ হওয়া পণ্যের বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভুরুঙ্গামারী সার্কেলের এএসপি মোঃ মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এসব অপতৎপরতা প্রতিরোধে ভুরুঙ্গামারী সার্কেলের অধীন থানাগুলোতে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তিনি আরও জানান, বাড়ির মালিকের কাছ থেকে চোরাকারবারি চক্রের সঙ্গে মুলহোতা শান্ত মিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সীমান্ত এলাকায় পুলিশের এমন কঠোর অবস্থানে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply