হোম / অপরাধ
অপরাধ

সাঘাটায় আইন প্রয়োগে দ্বিমুখী নীতি: নিরীহদের জেল-জরিমানা, প্রভাবশালীদের অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৭২ বার


গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলায় আইন প্রয়োগ নিয়ে চরম বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান যেন কেবল সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও দুর্বলদের ওপর সীমাবদ্ধ, অথচ প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রিত বড় বড় অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চললেও সেখানে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায় না।
গত এক মাসে উপজেলার কাকড়া গাড়ী চালকদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে এবং তাদের জেল ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ ইটভাটা, কয়লা কারখানা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রিত নানা অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান অভিযান নেই।
সরজমিনে দেখা যায়, বালু বহনকারী কাকড়া চালকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও বালু উত্তোলনের মূল চালকরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। একইভাবে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ইটভাটা ও কয়লা কারখানা প্রকাশ্যেই চালু রয়েছে। এসব কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও বর্জ্যে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
স্থানীয়রা জানান, আইন যেন কেবল খেটে খাওয়া মানুষের জন্যই প্রয়োগ হচ্ছে। পরিবেশ ধ্বংসকারী ইটভাটা, অবৈধ কয়লা কারখানা ও প্রভাবশালী মহলের অবৈধ ব্যবসা সবার চোখের সামনেই চললেও প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায় না।
কাকড়া চালক গোলজার বলেন, “পেটের দায়ে গাড়ি চালাই বলেই আমাদের জেল-জরিমানা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যারা কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চালায়, তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আইন কি শুধু আমাদের জন্য?”
কাঠালতলীর বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, “ইটভাটা ও কয়লা কারখানার ধোঁয়ায় পুরো এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সবাই জানে কারা এসব চালায়, তবু প্রশাসন নীরব। এটা স্পষ্ট বৈষম্য।”
মোকছেদ আলী বলেন, “সাঘাটা উপজেলা প্রশাসনের কাছে কি রাঘবোয়ালদের জন্য আলাদা কোনো আইন আছে? নিরীহদের ধরেই কি আইনের শাসন দেখানো হচ্ছে?”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার দত্ত জানান, “ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইটভাটা ও কয়লা কারখানার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের এখতিয়ারভুক্ত। অভিযোগ এলে তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল কবির বলেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলে। আমি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এবং বিধি অনুযায়ী নিয়ম মেনেই কাজ করছি।”
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, প্রশাসনের এসব বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের মিল নেই। তারা দাবি করছেন, পুরো উপজেলায় অবৈধ ইটভাটা, কয়লা কারখানা ও প্রভাবশালী মহলের অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ও কঠোর অভিযান চালানো হোক।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!