সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা অঞ্চলে সরিষা ফুলের মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌ খামারিরা। উধুনিয়া, বড়পাঙ্গাসী, বাঙালা, হাটিকুমরুল, সলঙ্গা ও রামকৃষ্ণপুরসহ বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেত এখন মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর। ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছি আর সেই মধু আহরণে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন খামারিরা।
সরিষা ক্ষেতের পাশে সারি সারি কাঠের বাক্সে সাজানো মৌচাক থেকে সকাল-বিকাল নিয়মিত মধু সংগ্রহ করছেন খামারিরা। তাদের মতে, সরিষা ফুলের মধু স্বাদ ও মানে উৎকৃষ্ট হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে।
সলঙ্গার বওলাতলা গ্রামে অবস্থিত উল্লাপাড়া ইসলামিয়া মৌ খামারের প্রতিষ্ঠাতা ও মৌচাষী আশিক আহমেদ বলেন,
“চলতি মৌসুমে মধুর যে চাহিদা রয়েছে, তাতে খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আমাদের একটাই দাবি—কৃষি অধিদপ্তরের সঙ্গে কৃষকদের সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী মধু নীতিমালা প্রণয়ন করা হোক। এতে দেশের পরাগায়ন খাত উন্নত হবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।”
সলঙ্গা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল আরমান জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে সরিষা ফুলের মধুর ভালো ফলনের আশা করা যাচ্ছে। প্রতি মৌচাক থেকেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্না ইয়াসমিন সুমি বলেন,
“সরিষা ফুল ও মৌচাষ একে অপরের পরিপূরক। এতে একদিকে মধু উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে পরাগায়নের মাধ্যমে সরিষার ফলনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে কৃষক ও মৌচাষী—উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর মধু উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় দুইশ টনের বেশি মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়মিত বাজারমূল্যে বিক্রি করলে প্রায় ছয় কোটি টাকার লেনদেন হতে পারে। এটি কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কুড়িগ্রাম
সলঙ্গায় সরিষা ফুলের মধু আহরণে ব্যস্ত খামারিরা, ভালো ফলনের আশায় চাষি ও মৌচাষীরা
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ণ
পড়া হয়েছে: ৩ বার
বিজ্ঞাপন

Leave a Reply