নিজস্ব প্রতিবেদক,
অনেক রাতের নির্ঘুম অধ্যয়ন, পরিবারের নীরব ত্যাগ আর মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার এক অদম্য স্বপ্ন—সবকিছুর মিলনবিন্দুতেই দাঁড়িয়ে আজ মোছাঃ এমি খাতুন। ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্যের মাধ্যমে তিনি নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ করে নিয়েছেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিজিএমই) প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষায় এমি খাতুন অর্জন করেছেন ৭৭.৫ নম্বর। তার মেধা স্কোর ১৭১.৫ এবং সারা দেশের হাজারো পরীক্ষার্থীর ভিড়ে তিনি ৫০৬২তম মেধা অবস্থান লাভ করেন। পরীক্ষায় তার রোল নম্বর ১৭০২৪৮৬ । এই ফলাফলের ভিত্তিতেই তার স্বপ্নের দরজা খুলে দেয় নীলফামারী মেডিকেল কলেজ।
এই সাফল্য কোনো একদিনের গল্প নয়। প্রতিটি নম্বরের পেছনে রয়েছে সময়ের সঙ্গে লড়াই, সীমাবদ্ধতার সঙ্গে সংগ্রাম এবং পরিবারকে দেওয়া নীরব প্রতিশ্রুতি। স্বজনদের ভাষায়, প্রতিকূলতা কখনোই তার পথ থামাতে পারেনি। বই আর খাতার ভিড়েই গড়ে উঠেছে তার আগামীর মানচিত্র।
ফল প্রকাশের দিন ঘরের কোণে রাখা মোবাইল ফোনে যখন নির্বাচিত হওয়ার বার্তাটি ভেসে ওঠে, তখন আবেগে চোখ ভিজে ওঠে এমি খাতুন ও তার পিতা ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পুর্ব দেওয়ানের খামার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক একরামুল হক ও মাতা মোছাঃ মঞ্জুয়ারা পারভীনসহ পরিবারের সবার। সেই চোখের জলে ছিল আনন্দ, গর্ব আর ভবিষ্যতের অগণিত প্রত্যাশা। প্রতিবেশীদের অভিনন্দন আর দোয়ায় মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
শিক্ষানুরাগী প্রভাষক আজিজুল হক বলছেন, এমি খাতুনের এই অর্জন শুধু একটি ভর্তি নয়—এটি হাজারো স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার গল্প। তিনি নিজেও বিশ্বাস করেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানে শিক্ষা নিয়ে একদিন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা দেশের অন্যতম কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভর্তি সংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। মোছাঃ এমি খাতুন সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী।

Leave a Reply