চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, মা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃতি শিক্ষার্থী, তাদের মা ও স্থানীয় অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় থানাহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন উলিপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ জুবায়ের আল মুকুল। স্বাগত বক্তব্য দেন থানাহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ তৈয়ব আলী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল বারী সরকার, উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ নুর আলম মুকুল, চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হানিফা, যুগ্ম আহ্বায়ক সাদাকাত হোসেন, সদস্য ও সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বুলুসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মা-অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। কুরআন তেলাওয়াত করেন বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছাঃ জীম বেগম।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ জুবায়ের আল মুকুল বলেন, “আমাকে একটা শিক্ষিত মা দাও, আমি একটা শিক্ষিত জাতি দেব।” তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান ও ধর্মীয় জ্ঞানের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। মাদক থেকে দূরে থেকে বইয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর শিক্ষাক্ষেত্রে ভালো করছে। চিলমারী কেন পিছিয়ে থাকবে? এ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বিশ্বমানের, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করতে হবে। ভালো শিক্ষক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে চিলমারীর শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব।
জেলা প্রশাসক অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনার মেয়েকে সম্পদ ভাবুন।” অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন। চরাঞ্চলের শিশুদের অপুষ্টি, অল্প বয়সে বিয়ে ও সন্তান জন্মদানের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামের সাক্ষরতার হার বাড়লেও শুধু সাক্ষরতা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়; শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে হবে। মাদক, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ইমাম-মুয়াজ্জিনদেরও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কোচিং-বাণিজ্য বন্ধ এবং পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, জীবনে সফল হওয়ার জন্য অর্থই সবকিছু নয়। একাগ্রতা, বিশ্বাস, আন্তরিকতা ও ভালোবাসাই মানুষকে এগিয়ে নেয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও ভালো কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, উপজেলা জামায়াতের আমির, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক কারিকুলাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা শেষে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদান করে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে সঞ্চালনা করেন মোঃ জিয়াউর রহমান।

Leave a Reply