আবু ছাইম রৌমারী কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
চর রাজিবপুরে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার দুই মিনিট একান্ন সেকেন্ডের একটি অডিও কলরেকর্ড এলাকার বিভিন্ন লোকের ফেসবুকে ছড়িয়ে পরে।
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে জমির নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি চর রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারুল ইসলাম একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তার স্থায়ী বাড়ি চর রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের চর নেওয়াজি গ্রামে। নদীভাঙ্গনের কারণে বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রামের জেলার পার্শ্ববর্তী উপজেলা উলিপুরের জোদ্দার পাড়ায় এলাকায় বসবাস করছেন। মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি নামজারি করতে গিয়ে তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে আনোয়ারুল ইসলাম দাবি করেন, জমি নামজারির জন্য করা তিনটি আবেদন করার পর বারবার আবেদন বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে এক পর্যায়ে তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দেন। পরে বিকাশও নগদের মাধ্যমে কয়েক দফায় আরও ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। সব মিলিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ওই কর্মকর্তাকে দিয়েছেন বলে তার দাবি। এসব লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে কল রেকর্ড ও বিকাশ ও নগদ লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন এবং দুই মিনিট একান্ন সেকেন্ডের অডিও কল রেকর্ড বিভিন্ন লোকের ফেসবুকে পোস্টেও করেছেন।
আনোয়ারুল ইসলামের অভিযোগ,২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট তার মৃত্যু তিন বোনের ওয়ারিশদের নামে চর রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের জমিটির নামজারি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ধলগাছা মৌজায় অবস্থিত এসএ খতিয়ান ভুক্ত জমি নামজারির জন্য আবেদন করেন। ধলগাছা মৌজার ৩৮৯ নম্বর এসএ খতিয়ানে মূল জমির পরিমাণ ছিল ০.৪৯ একর। কিন্তু আর্থিক সুবিধা নিয়ে খতিয়ানের তথ্য পরিবর্তন করে জমির পরিমাণ ১০.৫৬ একর উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, এ-সংক্রান্ত ২৮৪৮/২৬, ২৭১১/২৬ ও ২৮৪৬/২৬ নম্বর নামজারি মামলার বিপরীতে ২০২৬/১০০০০৮ নম্বর খতিয়ান মো. শফিউজ্জামান মণ্ডলের নামে এবং ২০২৩/১০০০০৯ নম্বর খতিয়ান মোছা. মমতাজ মহলের নামে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী জানান, সংশ্লিষ্ট নামজারি খতিয়ানগুলো বাতিলের দাবিতে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট চর রাজিবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদনটি ৪৪/২৬ নম্বর বিবিধ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট মৌজায় বিএস জরিপ সম্পন্ন হলেও অজ্ঞাত কারণে আরএস রেকর্ড প্রকাশিত হয়নি। তার মৃত বোনদের ওয়ারিশদের নামে নামজারির আবেদন করা জমি অন্য এক ব্যক্তির নামে নামজারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের নামেও জমির অতিরিক্ত অংশ নামজারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগির দেওয়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি ও জমির নামজারিসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগি আনোয়ারুল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন,
অভিযোগটি মিথ্যে বানোয়াট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মুঠোফোনের কল কেটে দেন। পরবর্তী ওই কর্মকর্তা ফোনে একাধিক বার ফোন দিলে কল কেটে দেন।
এ বিষয়ে চর রাজিবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইকুল হাসান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply