ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার জেরে ভূরুঙ্গামারীর সঙ্গে ঢাকা ও কুড়িগ্রাম রুটে সকল ধরনের বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে বাস মালিক সমিতি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও দূরপাল্লার ভ্রমণকারীরা।
জানা গেছে, গত সোমবার রাতে আন্ধারীঝাড় এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় একজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ঢাকাগামী স্বাধীন পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাসে অগ্নিসংযোগের এ ঘটনার পর কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতি ও উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতি নিরাপত্তার স্বার্থে ভূরুঙ্গামারী রুটে বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা ও অন্যান্য গন্তব্যে যাওয়া যাত্রীদের প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কুড়িগ্রাম জেলা সদরে গিয়ে বাস ধরতে হচ্ছে। একইভাবে কুড়িগ্রামমুখী যাত্রীদেরও অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অটোরিকশা কিংবা বিকল্প পরিবহনে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময়, অর্থ ও শ্রম—তিন দিক থেকেই বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
ভোগান্তির শিকার যাত্রী মাহাদী ইমাম, মাহজুবাহ হক ও আলেফ উদ্দিন জানান, তারা ঢাকা যাওয়ার জন্য আগেই নাইট কোচের টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে বাস ভূরুঙ্গামারীতে প্রবেশ করবে না; কুড়িগ্রাম গিয়ে বাসে উঠতে হবে। ব্যাগ-বস্তা ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এদিকে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নূরে আলম সিদ্দিকী মুকুট বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন বলেন, “আমাদের বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবহন ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে বাস চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে মালিক সমিতির সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন কাজ করছে। এ বিষয়ে উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতির সম্পাদক স্বপন কুমার সাহার সঙ্গে কথা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয়রা দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply