ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা পাউরুটি বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৯ জুন স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পাউরুটি বিতরণ করা হয়। ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাভলী পাউরুটির প্যাকেট খুলে দেখতে পায়, সেটি পচে গেছে এবং দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। পরে সে পাউরুটি না খেয়ে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বিষয়টি তার বাবা মাসুদ রানাকে জানায়।
বৃহস্পতিবার মাসুদ রানা পচাঁ পাউরুটিসহ উপজেলা শিক্ষা অফিসে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামকে জানায় আনেন। অভিযোগ পাওয়ার পর শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাশের হোসেনকে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় পাউরুটির প্যাকেটের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ২ জুলাই তারিখ থাকলেও রুটিটি পঁচা পাওয়া যায়।
এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক উম্মে কুলসুম বলন,২৯ জুন পাউরুটিগুলো আমাদের সরবরাহ করেছে। বাচ্চাদের দেওয়ার সময় কিছু পাউরুটিতে সবুজ রংগের ছত্রাক জাতীয় দেখাতে পায়। শিক্ষক তাৎক্ষণিক রুটি বিলি বন্ধ করে দেয়।
ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ESDO)ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সমন্বয়কারী মনজু আলম এই পতিবেদককে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করেন।
সহকারী শিক্ষা অফিসার মোবাশ্বের হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে তিনি জানান, “শিক্ষার্থীদের জন্য ফাঙ্গাস পড়া রুটি পরিবেশনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ESDO) শিক্ষার্থীদের জন্য খাদ্য সরবরাহ করে থাকে। পচা খাবার বিতরণের এ অভিযোগের পর খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিভাবকরা দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply