ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় অবস্থিত শাহা ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও ডিজেল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের দাবি, নির্ধারিত নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ট্যাগ অফিসার ছাড়াই জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে এবং পরিমাপেও কম দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ না করেই পাম্পে জ্বালানি বিতরণ চলছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট টাকার বিপরীতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফুয়েল কার্ড ছাড়াই ড্রামে করে জ্বালানি বিক্রির ঘটনাও ঘটছে, যা সম্পূর্ণভাবে নিয়মবহির্ভূত।
স্থানীয় গ্রাহক হাছিমুদ্দিন
সাব্বির হোসেন, আজিজ মিয়া,আজিজার রহমান বাবলা সরকার অভিযোগ করে জানান, “বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়ম না মেনেই ড্রামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।” হাছিমুদ্দিন আরও বলেন, “আমি ৪০০ টাকার পেট্রোল নিয়ে ওজন করে দেখি, সেখানে প্রায় ৬৭ টাকার পেট্রোল কম দেওয়া হয়েছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও উক্ত ফিলিং স্টেশনে তা মানা হচ্ছে না। এদিকে, অনিয়মের প্রতিবাদে গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং গ্রাহকদের সঠিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন। তিনি জানান, পরবর্তীতে বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ এসে ওজন যন্ত্র পরীক্ষা করবে এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান এখন থেকে নিয়মিত ট্যাগ অফিসার থাকবে বলে নিশ্চিত করেন।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকা ভুরুঙ্গামারী থানার এসআই এনামুল হোসেন জানান, “ট্যাগ অফিসার না থাকা এবং ফিলিং স্টেশনের অনিয়মের কারণে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, কোনো অবনতি ঘটেনি।”
এদিকে, ভুরুঙ্গামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম শামসুল আলম অভিযোগ করে জানান, সরকারি জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান—যেমন বিদ্যুৎ, হাসপাতাল, পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীদের পর্যাপ্ত জ্বালানি না দিয়ে অনিয়ম করে বিক্রি করায় জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply