হোম / ধর্ম
ধর্ম

পবিত্র শাবান মাসের ফজিলত ও ইবাদত: রমজানের প্রস্তুতির অনন্য সময়

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ১৭ বার

লেখক: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী


প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট
সাবেক ইমাম ও খতিব, হযরত দরিয়া শাহ্ (রহ.) মাজার জামে মসজিদ, কদমতলী, সিলেট
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট
ইসলাম ধর্মে চন্দ্রমাসগুলোর মধ্যে শাবান মাস এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ মাস। এই মাসে রয়েছে লাইলাতুল বরাতের মতো বরকতময় রজনী, যা মাহে রমজানের আগমনী বার্তা বহন করে। শাবান মাস মূলত পবিত্র রমজানের প্রস্তুতির মাস হিসেবে পরিগণিত। প্রতি বছর এ মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহিমান্বিত রমজানের সওগাত নিয়ে আসে।
হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় অধিক নফল রোজা পালন করতেন এবং ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করে মাহে রমজানের জন্য আত্মপ্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান ব্যতীত অন্য কোনো মাসে পূর্ণ এক মাস রোজা রাখতে দেখা যায়নি; তবে শাবান মাসে তিনি অধিক হারে নফল রোজা আদায় করতেন (মুসলিম)। অপর এক হাদিসে এসেছে, শাবান মাস ছাড়া অন্য কোনো মাসে তিনি এত বেশি নফল রোজা রাখতেন না (বুখারি)।
শাবান মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী এই মাসটি অনেকের কাছে উপেক্ষিত থাকে, অথচ এ মাসেই বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তাই তিনি চাইতেন, তার আমলনামা রোজা অবস্থায় আল্লাহর কাছে উপস্থাপিত হোক (নাসাঈ, আবু দাউদ)।
শাবান মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মধ্য শাবানের রজনী—যা শবে বরাত নামে পরিচিত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এ রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং মুমিনদের ক্ষমা করেন; তবে শিরক ও বিদ্বেষ পোষণকারীরা তওবা না করা পর্যন্ত এ রহমত থেকে বঞ্চিত থাকে (বায়হাকি, ইবনে হিব্বান)।
মাহে রমজানের দীর্ঘ সিয়াম সাধনার প্রস্তুতিতে শাবান মাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসে নফল রোজা, কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, তওবা-ইস্তেগফার ও নেক আমলের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির অনুশীলন রমজানের ইবাদতকে সহজ ও ফলপ্রসূ করে তোলে। রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে আমলের ভারসাম্যের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, আল্লাহর কাছে সেই আমলই অধিক প্রিয় যা নিয়মিতভাবে করা হয় (বুখারি)।
শাবান মাসের ফজিলত প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) আল্লাহর দরবারে দোয়া করতেন—
“হে আল্লাহ! আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।” (মুসনাদে আহমাদ)
অতএব, পবিত্র শাবান মাসে অধিক ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আত্মসংযম ও চরিত্র গঠনের চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কাম্য। বিশেষ করে মধ্য শাবানের রজনীতে তওবা-ইস্তেগফার করে অতীত গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর আনুগত্য ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শে জীবন পরিচালনার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করা উচিত।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে শাবান মাসের ফজিলত উপলব্ধি করে সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!