খুলনা প্রতিনিধিঃ
ডিজিটাল সিকিউরিটির অজুহাতে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হবে না বলে মন্তব্য করেছেন খুলনার জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পিআইবির সানোয়ার সাইদ শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রশিক্ষণের রিসোর্স পারসন দৈনিক আমার দেশ-এর ডেপুটি এডিটর সুলতান মাহমুদ বাদল, সাংবাদিক ও শিক্ষক ইউল্যাবের নাজিয়া আফরিন মনামী, খুলনা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, বিএফইউজে’র সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা।
নগরীর সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় খুলনার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নেন। একই সঙ্গে খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত পৃথক কর্মশালায় জেলার ৯টি উপজেলার ৪৫ জন সাংবাদিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কিংবা পেশাগত ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও প্রশাসন নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। খুলনায় দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা জটিল থাকলেও জেলা প্রশাসন ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনের ওপর নানা দিক থেকে চাপ আসে, এমনকি অবৈধ কর্মকাণ্ডে ছাড় দেওয়ার অনুরোধও করা হয়। তবে নিয়মের বাইরে একটিও কাজ করা হয়নি। পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় কোনো ইটভাটার লাইসেন্স নবায়ন করা হচ্ছে না এবং অবৈধ যানবাহন ও বালু মহল নিয়ন্ত্রণেও প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
খুলনার পাঁচটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী পরিবেশকে এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার প্রার্থীরা সহযোগিতামূলক আচরণ করছেন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী কার্যক্রম আরও গতি পাবে। ইতোমধ্যে অভিযোগ গ্রহণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে এবং অন্যান্য জেলার তুলনায় খুলনায় অভিযোগের সংখ্যা কম।
সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ হিসেবে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, গণমাধ্যমে অনিয়ম তুলে ধরার কারণেই অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তবতাকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আইন ও পরামর্শ
ডিজিটাল সিকিউরিটির অজুহাতে আর কোনো সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হবে না : খুলনার জেলা প্রশাসক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
পড়া হয়েছে: ৩২ বার
বিজ্ঞাপন

Leave a Reply