মো. আনোয়ারুল ইসলাম, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র স্রোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডান তীররক্ষা প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দেওয়ায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নিয়ে দায়সারাভাবে কাজ করায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবল স্রোত পশ্চিমমুখী হওয়ায় রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাচকোল সড়কটারী থেকে কালিরকুড়া পর্যন্ত অন্তত ছয়টি স্থানে ওয়াপদা বাঁধ এবং বাঁধসংলগ্ন ডান তীররক্ষা প্রকল্পে ধস দেখা দেয়। এতে বাঁধের পিচিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনের ঝুঁকি আশপাশের জনবসতির দিকে এগিয়ে আসছে।
ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগে বালু ভরে ধসে পড়া স্থানগুলোতে ফেলার কাজ শুরু করে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল সংখ্যক জিওব্যাগ ব্যবহার করায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং জিওব্যাগ ফেলতে গিয়ে কয়েকটি স্থানের দক্ষিণ অংশেও নতুন করে ধস সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম জানান, ভাঙনের বিষয়টি তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) শরিফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে অবহিত করলে তিনি পর্যাপ্ত জিওব্যাগের সংকটের কথা জানান। একই সঙ্গে বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও আশ্বস্ত করেন।
এলাকাবাসীর মধ্যে মিজানুর রহমান, নুর ইসলামসহ অনেকে অভিযোগ করেন, স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়ক্ষেপণ করছে। তাদের দাবি, যেখানে অন্তত চার হাজার জিওব্যাগ প্রয়োজন, সেখানে মাত্র প্রায় ৩০০টি জিওব্যাগ ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে। এতে জনবহুল এলাকার মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এছাড়া কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বাঁধসংলগ্ন স্থানে জিওব্যাগে বালু ভরাট ও ডাম্পিং কার্যক্রমে অনিয়মের চেষ্টা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সচেতন মহল দ্রুত পর্যাপ্ত জিওব্যাগ সরবরাহ, স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ব্রহ্মপুত্রের তীব্র স্রোতে বাঁধের আরও বড় অংশ বিলীন হয়ে আশপাশের জনবসতি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।

Leave a Reply