হোম / আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

চাঁদের পাশে উজ্জ্বল আলো—অলৌকিকতা নয়, মহাকাশের স্বাভাবিক নিয়ম

প্রকাশ: 15 September 2026, 04:00 AM পড়া হয়েছে: ১২ বার

মনজুরুল ইসলাম

সন্ধ্যার আকাশে এক ফালি চাঁদের পাশে উজ্জ্বল আলোকবিন্দু। নান্দনিক এই দৃশ্য মুগ্ধ করেছে অনেককে। তবে এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হয়েছে নানা ব্যাখ্যা—কেউ বলছেন বিরল মহাজাগতিক ঘটনা, কেউ দেখছেন কেয়ামতের ইঙ্গিত, আবার কারও দাবি, শুরু হয়েছে নতুন কোনো যুগ।

তথ্য যাচাই করলে অবশ্য ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। চাঁদের পাশে দেখা উজ্জ্বল বস্তুটি কোনো নক্ষত্র নয়, শুক্র গ্রহ (Venus)। পৃথিবী থেকে শুক্রকে প্রচলিতভাবে ‘সন্ধ্যাতারা’ বলা হয়। সূর্যের আলো প্রতিফলিত করার কারণে এটি রাতের আকাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল দেখায়।

চাঁদ ও শুক্রের এমন কাছাকাছি অবস্থানকে জ্যোতির্বিজ্ঞানে কনজাংশন (Conjunction) বলা হয়। এর অর্থ তারা বাস্তবে পাশাপাশি চলে এসেছে—এমন নয়। পৃথিবী, চাঁদ ও শুক্র নিজ নিজ কক্ষপথে চলতে থাকে। নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবী থেকে দেখলে তাদের আকাশের একই অংশে কাছাকাছি মনে হয়। এটি মূলত পর্যবেক্ষণের দৃষ্টিকোণজনিত একটি মহাজাগতিক বিন্যাস।

এ ধরনের ঘটনা জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আগেই গণনা করতে পারেন। ফলে এটিকে অশুভ সংকেত বা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কেয়ামত কিংবা ‘কলিযুগের সূচনা’র সঙ্গে এই দৃশ্যের কোনো প্রমাণিত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সম্পর্কও নেই।

তবে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ অন্য কারণে। মহাকাশের নিয়মিত গতিবিধি মানুষের কৌতূহল বাড়ায় এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে। একটি সুন্দর আকাশদৃশ্যকে ভয় বা গুজবের উৎস না বানিয়ে অনুসন্ধানের বিষয় হিসেবে দেখাই যুক্তিসংগত।

মহাকালের মহাগুরু,মহাকাল গবেষক ও সাংবাদিক মনজুরুল ইসলাম বলেন, “কেউ বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ নেই। প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী এমনটা যুগে যুগে ঘটছে এবং ঘটবে—এটাই স্বাভাবিক।”

তিনি বলেন, “আসুন আমরা অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করে আগামীর পৃথিবীতে সকল সৃষ্ট জীবের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মঙ্গল সাধনে কাজ করি।”

আকাশের ঘটনাকে ঘিরে মানুষের বিস্ময় নতুন নয়। অতীতে গ্রহণ, ধূমকেতু কিংবা উল্কাপাত নিয়েও নানা কুসংস্কার ছিল। বিজ্ঞান সেই রহস্যগুলোর অনেকটাই ব্যাখ্যা করেছে। আজকের দিনে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগও আগের চেয়ে অনেক বেশি।

তাই চাঁদের পাশে উজ্জ্বল শুক্রকে দেখে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বরং এটি মনে করিয়ে দেয়—মহাবিশ্ব নিজের নিয়মেই চলছে; আমাদের কাজ সেই নিয়মকে ভয় নয়, জ্ঞান দিয়ে বোঝা।

লেখকঃ সাংবাদিক, সমসাময়িক প্রাবন্ধিক, সমাজ সংস্কারক, মহাগুরু, মহাকাল গবেষক।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!