সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
শীত এলেই খেজুরের রসের কদর বাড়ে গ্রামবাংলায়। সেই চাহিদা মেটাতে দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা অঞ্চলের গাছি আব্দুল মান্নান (৭০)। শীতের ভোরে একসময় গ্রামে গ্রামে ঘুরে “খেজুর রস লাগবে, খেজুর রস!”—এই ডাকেই পরিচিত ছিলেন তিনি। এখন খেজুর গাছ কমে যাওয়ায় আর ঘুরে বেড়াতে হয় না; বরং তার বাড়িতেই প্রতিদিন ভিড় জমান রসপ্রেমীরা।
নিজের কয়েকটি গাছসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে খেজুর গাছ সংগ্রহ ও মৌসুমি চুক্তিতে পরিচর্যা করে রস সংগ্রহ করেন আব্দুল মান্নান। এ বছর প্রায় ২০–২৫টি খেজুর গাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০–৬০ লিটার রস সংগ্রহ করছেন তিনি। লিটারপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করে এই মৌসুমি ব্যবসা থেকেই চলে তার জীবিকা।
গাছি আব্দুল মান্নান বলেন, “আমার গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে ২০–২৫টি খেজুর গাছ লাগিয়েছি। ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে রস নামানো শুরু করি। ভোররাত থেকেই কাজ শুরু হয়। রসের ব্যবসা মাত্র তিন মাসের—এই তিন মাসের জন্যই সারা বছর অপেক্ষা করি।”
খেজুরের গাছ কম থাকায় এলাকায় রসের চাহিদা এখনো বেশ বেশি। অনেক সময় দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ রস নিতে আসেন। রাকিবুল নামে এক ক্রেতা জানান, “রস পাওয়া যাবে ভেবে সিরাজগঞ্জ রোড থেকে এসেছিলাম। কিন্তু দেরি হয়ে যাওয়ায় আজ পেলাম না। অন্যদিন সময়মতো আবার আসবো।”
গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই মৌসুমি ব্যবসা শুধু স্বাদ আর সংস্কৃতির স্মারক নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের জীবিকা নির্বাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎসও বটে। সিরাজগঞ্জে খেজুরের রস বিক্রির এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে রাখছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।
কুড়িগ্রাম
খেজুরের রসে জীবিকা: সলঙ্গায় গাছি আব্দুল মান্নানের মৌসুমি সংগ্রাম
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ণ
পড়া হয়েছে: ৫৬ বার
বিজ্ঞাপন
সম্পর্কিত খবর
বেলকুচিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: চার ব্যবসায়ীকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা, জব্দ ১৩০৬ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন
3 hours আগে
আলফাডাঙ্গায় শত বছরের পুরনো ১১৯ কেজি ওজনের কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার, একজন আটক
3 hours আগে

Leave a Reply