হোম / অপরাধ
অপরাধ

কুড়িগ্রামে স্কুলে আসেন না শিক্ষকরা, কুড়িগ্রামে লাঠি সোঁটা হাতে শিশুদের আন্দোলন

প্রকাশ: 18 August 2026, 12:54 AM পড়া হয়েছে: ২৯ বার
কুড়িগ্রামে স্কুলে আসেন না শিক্ষকরা, কুড়িগ্রামে লাঠি সোঁটা হাতে শিশুদের আন্দোলন
কুড়িগ্রামে স্কুলে আসেন না শিক্ষকরা, কুড়িগ্রামে লাঠি সোঁটা হাতে শিশুদের আন্দোলন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসেন না শিক্ষকরা, বন্ধ থাকে শ্রেণিকক্ষ। দিনের পর দিন এমন অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কুড়িগ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে আন্দোলনে নেমেছে। শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে এসে পাঠদান করুন—এ দাবিতে তারা বন্ধ শ্রেণিকক্ষের দরজায় লাথি মেরে অভিনব প্রতিবাদ জানায়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অবস্থিত খেয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে দেখতে পায় সব শ্রেণিকক্ষ বন্ধ। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে না আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোঁটা হাতে দলবদ্ধ হয়ে বন্ধ শ্রেণিকক্ষের দরজায় লাথি মারতে থাকে এবং বিক্ষোভ শুরু করে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম, মাজেদুল, শিশু খাতুন ও সামসুন্নাহার জানায়, শিক্ষকরা দিনের পর দিন বিদ্যালয়ে আসেন না। ফলে নিয়মিত পাঠদানও হয় না। শিক্ষকরা যেন নিয়মিত স্কুলে এসে ক্লাস নেন, সেই দাবিতেই তারা আন্দোলনে নেমেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির এমন বেহাল অবস্থা। বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক থাকলেও কেউ নিয়মিত আসেন না। বর্তমান প্রধান শিক্ষক ইসরাত জাহান দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সোমবার সকালে শিক্ষকরা না আসায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে স্থানীয়রা গিয়ে তাদের শান্ত করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে খেয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসরাত জাহানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। শিক্ষকরা কেন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত উপস্থিত থেকে পাঠদান নিশ্চিত করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!