স্টাফ রিপোর্টার,কুড়িগ্রাম।
উৎসবমুখর পরিবেশ ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামে শেষ হয়েছে ‘১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’। প্রতিযোগিতার পুরুষ বিভাগে কুড়িগ্রাম থানা এবং নারী বিভাগে নাগেশ্বরী থানা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। জেলার বিভিন্ন থানার পুরুষ ও নারী দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
ফাইনালে পুরুষ বিভাগে ভূরুঙ্গামারী থানা দলকে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয় কুড়িগ্রাম থানা দল। নারী বিভাগের ফাইনালে কচাকাটা থানা দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় নাগেশ্বরী থানা। টানটান উত্তেজনার এসব ম্যাচ উপভোগ করতে স্টেডিয়ামে জড়ো হন শত শত দর্শক। খেলোয়াড়দের ক্রীড়াশৈলী, দলীয় সমন্বয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুরো মাঠ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
আয়োজকেরা জানান, পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
খেলা শেষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, পিপিএম।
বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, খেলাধুলা তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখার পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের আওতায় এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নাজির হোসেন, কুড়িগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মো. শফিকুল ইসলাম বেবু, জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান স্বপন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মওলানা নিজামউদ্দিন এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব।
এ ছাড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিমতানুর রহমান, পিপিএম, কুড়িগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ রানা, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মো. আসাদ আহম্মেদ রনিসহ বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ ও পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়বে এবং খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পথ আরও সুগম হবে—এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।

Leave a Reply