স্টাফ রিপোর্টারঃ
সংবাদপত্রের পাতায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার গল্প উঠে আসে। কিন্তু যারা এই গল্পগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরেন, তাদের নিজেদের জীবনসংগ্রামের গল্প অনেক সময়ই থেকে যায় আড়ালে। তেমনই এক নীরব সংগ্রামের নাম তৌহিদুল ইসলাম বাবলা।
দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে নানা দুরারোগ্য ব্যাধি বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। গ্যাস, এসিডিটি, আলসার, এলার্জি, চর্মরোগ থেকে শুরু করে বর্তমানে শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি কাশি, উচ্চ রক্তচাপ ও প্রস্টেট ক্যানসারের মতো জটিল রোগের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছেন। কিন্তু অসুস্থতা তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি ধরে রেখেছেন সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা।
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে রাজধানী ঢাকায় অবস্থানকালে শুরু হয় তার শারীরিক ভোগান্তি। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সে সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারেননি। ধীরে ধীরে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক ও এসিডিটির সমস্যা আলসারে রূপ নেয়। শরীরে বাসা বাঁধে এলার্জি ও চর্মরোগও। তবুও জীবনযুদ্ধ থেমে থাকেনি। সংবাদপত্রের কাজ করে গেছেন নিরলসভাবে।
২০০০ সালের দিকে তিনি রংপুরে ফিরে স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘অটল’ পত্রিকায় যুক্ত হন। সেই সময় তীব্র পেটব্যথায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আন্তরিক সহযোগিতায় প্রায় এক মাস চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থতা ফিরে পান।
কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতা যেন তাকে কখনো পুরোপুরি ছাড় দেয়নি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নতুন নতুন জটিলতা দেখা দেয়। বর্তমানে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে চিকিৎসা চালিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।বর্তমানে তিনি রংপুর বিভাগীয় শহর থেকে প্রচারিত” দৈনিক প্রথম খবর”পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গা। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই অসুস্থ শরীর নিয়েও আজও মানুষের পাশে থাকতে চান তৌহিদুল ইসলাম বাবলা। তার এই জীবন সংগ্রাম শুধু একজন ব্যক্তির কষ্টের গল্প নয়; এটি আমাদের সমাজে অবহেলিত, অসুস্থ ও আর্থিক সংকটে থাকা প্রবীণ সংবাদকর্মীদের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে।
সমাজের সচেতন ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং দোয়া হয়তো এই প্রবীণ সাংবাদিকের জীবনযুদ্ধকে কিছুটা সহজ করে দিতে পারে। কারণ, যারা সারাজীবন মানুষের কথা লিখেছেন, তাদের কষ্টের সময় সমাজেরও দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় তাদের পাশে দাঁড়ানো।তাই সকলে এগিয়ে আসুন,এই অদম্য সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম বাবলার পাশে দাড়াই,সহায়তার হাত বাড়াই। আবারও সুস্থ হয়ে সাংবাদিকতার কাজে মনোনিবেশ করুক এই প্রত্যাশা সকলের।

Leave a Reply