কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত জনতা ক্লিনিকে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে জেসমিন বেগম (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নবজাতক ছেলে সন্তান সুস্থ রয়েছে।
নিহত জেসমিন বেগম নাগেশ্বরী পৌরসভার জুম্মাপাড়া (মুন্সিপাড়া) এলাকার বাসিন্দা হোটেল শ্রমিক সালমান হোসেনের স্ত্রী এবং পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলরখামার এলাকার জাহিদুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় আড়াই বছর আগে তাদের বিয়ে হয় এবং এটিই ছিল তাদের প্রথম সন্তান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে প্রসব বেদনা শুরু হলে জেসমিন বেগমকে নাগেশ্বরী বাসস্ট্যান্ডের জনতা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভর্তির পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মাহমুদা খাতুন (মুক্তা) তড়িঘড়ি করে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জেসমিন একটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেও কিছুক্ষণ পরই তিনি তীব্র পেটব্যথায় চিৎকার করতে থাকেন।
পরিবারের অভিযোগ, পরে পরীক্ষা করে দেখা যায় সিজারের সময় ব্যবহৃত একটি ছুরি রোগীর পেটের ভেতরে রেখেই সেলাই করা হয়েছে। বিষয়টি ধরা পড়লে সেদিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পুনরায় দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে ছুরি বের করা হয়। কিন্তু এরপরও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
রাত প্রায় ২টার দিকে জেসমিন বেগমের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা যায়, জনতা ক্লিনিকের মূল ফটকে তালা ঝুলানো রয়েছে। প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে ভেতরে থাকা কর্মরত স্টাফরা নিজ নিজ কক্ষে আত্মগোপন করেন বলে জানা গেছে।
নিহতের বাবা জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “জনতা ক্লিনিকের মালিক মতিয়ার রহমান ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা এবং চরম অবহেলার কারণেই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চাই।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও নাগেশ্বরী পৌরসভার মাজারপাড়া এলাকার আতাউর রহমানের স্ত্রী শরিফা বেগমসহ কয়েকজন রোগীর ভুল অস্ত্রোপচারের ঘটনায় মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জনতা ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply