হোম / কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম

দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে আছে কচুয়া ব্রীজদুর্ভোগে দুই পাড়ের হাজারো মানুষ, দ্রুত গার্ডার ব্রীজ নির্মাণের দাবি

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: বার


নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ নন্দনপুর-কলীগঞ্জ গোড্ডারারপাড় গ্রামীণ সড়কের কচুয়া বিলের ওপর নির্মিত ব্রীজটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিতরবন্দ নন্দনপুর এলাকায় বিস্তীর্ণ কচুয়া বিলের মাঝ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ গ্রামীণ সড়কটি চলে গেছে। একসময় বর্ষাকালে হাঁটু পানি পেরিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হতো। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমাতে ১৯৮৭ সালে সেখানে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ত্রাণের ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। তবে পরের বছর বন্যার পানির তোড়ে সেটি ভেঙে যায়। পরে ২০০১ সালে পুনরায় একই ধরনের আরেকটি ব্রীজ নির্মাণ করা হলেও ২০০৬ সালের ভয়াবহ বন্যায় সেটিও ধ্বংস হয়ে যায়।
এরপর এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ব্রীজের ওপর কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন রোদ-বৃষ্টি ও অবহেলায় সেই কাঠের পাটাতন এখন পচে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় ভেঙে পড়ায় বর্তমানে সাঁকোটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হেঁটে সাবধানে চলাচল করা গেলেও যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, মজিবর রহমান, রফিকুল ইসলাম, জাকির হোসেন, হাসেম আলী ও রমেশসহ অনেকেই জানান, অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিতে কয়েক কিলোমিটার ভাঙা সড়ক ঘুরে যেতে হয়। কৃষি পণ্য, সার ও ধান-চাল পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। দ্রুত সেখানে একটি টেকসই গার্ডার ব্রীজ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি বলেন, বর্ষায় উজানের ডায়না ও কুমড়িয়া বিলের পানি তীব্র স্রোতে কচুয়া বিল হয়ে দুধকুমার নদে গিয়ে পড়ে। ফলে ছোট আকারের ফুট ব্রীজ বা বক্স কালভার্ট সেখানে টেকে না। এখানে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস বরাদ্দ সংকটের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) জানিয়েছে, সড়কটি তাদের তালিকাভুক্ত না হওয়ায় তারা ব্রীজ নির্মাণ করতে পারছে না। ফলে প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ আটকে আছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখকারুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কাঠের সাঁকোটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ ফুট। ত্রাণের আওতায় সর্বোচ্চ ৪০ ফুট পর্যন্ত বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা সম্ভব। তাই সেখানে এলজিইডির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর স্থায়ী দুর্ভোগ দূর হবে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!