খুলনা প্রতিনিধিঃ
ডুমুরিয়ায় আপার ভদ্রা অববাহিকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে জনগণের প্রস্তাবনা তুলে ধরে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ডুমুরিয়ার চুকনগর ট্রেড স্কুলে আপার ভদ্রা অববাহিকা পানি কমিটির আয়োজনে এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উত্তরনের আপার ভদ্রা অববাহিকা পানি কমিটির আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল মতলেব, উত্তরনের প্রতিনিধি মো. হাসেম আলী, দিলীপ কুমার সানা, শেখ সেলিম আক্তার স্বপন, মীর জিল্লুর রহমানসহ পানি কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, প্রায় ৪০ বছর ধরে আপার ভদ্রা অববাহিকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। আপার ভদ্রা নদীর সঙ্গে যুক্ত নরনিয়া লুইসগেট এলাকা, বুড়ী ভদ্রা ও হরিহর নদীর প্রায় ৩৩ হাজার হেক্টর এলাকার পানি নিষ্কাশন হয় আপার ভদ্রা নদীর মাধ্যমে। এ নদীর ওপর নির্ভরশীল জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক। পানি নিষ্কাশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক এলাকা হলো যশোরের মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা, সাতক্ষীরার তালা উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা।
বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, আপার ভদ্রা অববাহিকার পানি খর্নিয়া ব্রিজের এক কিলোমিটার উজানে রানাই ত্রিমোহনায় এসে মিলিত হয়। এরপর আপার ভদ্রা ও ভবদহ এলাকার হরিনদী যুক্ত হয়ে তেলিগাতী-ঘ্যাংরাইল নদী দিয়ে বারআড়িয়া হয়ে শিবসা নদীতে প্রবাহিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আপার ভদ্রা, বুড়ী ভদ্রা ও হরিহর নদী একাধিকবার খনন করা হলেও ব্যাপক অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার কারণে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি। এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই নদী পলিতে ভরাট হয়ে পুনরায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দপ্তরের ওপর জনগণের অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা জানান, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে চলতি বছরের নদী খনন কার্যক্রম সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়েছে। এতে এলাকাবাসী আশাবাদী হলেও অতীত অভিজ্ঞতা থেকে কিছু শঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়। তারা বলেন, প্রকল্প সময়মতো শুরু ও শেষ না হওয়া, নির্ধারিত ডিজাইন অনুসরণ না করা, নদীর ক্রস সেকশন ও বাঁধ সঠিকভাবে অপসারণ না করাসহ উত্তোলিত মাটি ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে।
এ বছর আপার ভদ্রা নদীর ১৮.৫ কিলোমিটার এবং হরিহর নদীর ৩৫ কিলোমিটার খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রানাই ত্রিমোহনার কাশিমপুর এলাকায় আপার ভদ্রা নদীর ওপর ক্রসবাঁধ দেওয়া হয়েছে। এতে অববাহিকা এলাকায় বোরো চাষ ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, গড়ে মাত্র ৫০-৫৫ শতাংশ জমি চাষের আওতায় আসবে। পানি নিষ্কাশনের জন্য আরও ২০-২৫ দিন সময় পেলে অধিকাংশ জমিই চাষযোগ্য হতো বলে জানান বক্তারা।
এছাড়া খননকৃত মাটি পাবলিক জমির ওপর ফেলা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের কোনো ব্যবস্থা প্রকল্পে নেই বলে অভিযোগ করা হয়। চলতি প্রকল্পে উত্তোলিত মাটি জমির মালিকরা ব্যবহার করতে পারবেন না—এ সিদ্ধান্তে এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ পায়। তাদের দাবি, মাটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে হবে অথবা জমির যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, খনন কাজ শুরুর আগে পানি সেচ ব্যবস্থার জন্য প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা উচিত ছিল। ইতোমধ্যে খর্নিয়া ব্রিজের নিচে তেলিগাতী-ঘ্যাংরাইল নদীর ওপর ক্রসবাঁধ নির্মাণ শুরু হয়েছে। বর্তমানে পলি মৌসুম চলায় দ্রুত নদী ভরাটের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি কুলবাড়িয়া সুইসগেটের নিচের অংশেও ঘ্যাংরাইল নদী ভরাট হওয়ার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলন থেকে অবিলম্বে পরিকল্পিত ও স্বচ্ছভাবে নদী খনন, উত্তোলিত মাটির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জমির মালিকদের ন্যায্য দাবি পূরণের আহ্বান জানানো হয়।
কুড়িগ্রাম
ডুমুরিয়ায় আপার ভদ্রা অববাহিকার জলাবদ্ধতা নিরসনে জনগণের প্রস্তাবনা তুলে ধরে সাংবাদিক সম্মেলন
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
পড়া হয়েছে: ১৬ বার
বিজ্ঞাপন

Leave a Reply