হোম / আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

কাকড়া চাষে সম্ভাবনার বাংলাদেশ: কর্মসংস্থান ও রপ্তানির নতুন দিগন্ত

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৮২ বার
কাকড়া চাষে সম্ভাবনার বাংলাদেশ: কর্মসংস্থান ও রপ্তানির নতুন দিগন্ত
কাকড়া চাষে সম্ভাবনার বাংলাদেশ: কর্মসংস্থান ও রপ্তানির নতুন দিগন্ত

মনজুরুল ইসলাম

বাংলাদেশের হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাকড়ার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেটসহ বড় শহরের অভিজাত হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে কাকড়া এখন জনপ্রিয় খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও—বিশেষ করে চীন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে—বাংলাদেশি কাকড়ার চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে পরিকল্পিত ও আধুনিক কাকড়া চাষ এখনো দেশে ব্যাপকভাবে গড়ে ওঠেনি। অথচ উপকূলীয় ও নদীবেষ্টিত বাংলাদেশে কাকড়া চাষের প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত অনুকূল। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, ভোলা, কক্সবাজারসহ উপকূলীয় জেলা ছাড়াও চরাঞ্চল ও হাওর এলাকাগুলো কাকড়া চাষের জন্য সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

কাকড়া চাষের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—এতে তুলনামূলক কম পুঁজি লাগে, দ্রুত লাভ পাওয়া যায় এবং অল্প জায়গায়ও চাষ সম্ভব। ফলে এটি গ্রাম ও মফস্বলের বেকার যুবকদের জন্য একটি কার্যকর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একটি মাঝারি আকারের কাকড়া খামার থেকেই একাধিক যুবকের স্থায়ী আয় নিশ্চিত করা সম্ভব। এর পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা ও পারিবারিক খামার ব্যবস্থার মাধ্যমেও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে।

বর্তমানে দেশের বহু যুবক কর্মসংস্থানের অভাবে শহরমুখী কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশযাত্রায় আগ্রহী হয়ে উঠছে। যদি সরকার পরিকল্পিতভাবে কাকড়া চাষে উদ্যোগ গ্রহণ করে—তাহলে এই যুবশক্তিকে দেশেই উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাকড়া চাষে সরকারের কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ বড় পরিবর্তন আনতে পারে। যেমন—

  • যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু
  • প্রান্তিক ও বেকার যুবকদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ ও প্রণোদনা
  • উন্নত জাতের কাকড়া পোনা সরবরাহ ও গবেষণা জোরদার
  • সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন
  • রপ্তানিমুখী কাকড়া শিল্প গড়ে তুলতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ক্লাস্টার গঠন

একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই চাষ ব্যবস্থার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অপরিকল্পিত আহরণ বা প্রাকৃতিক জলাশয় ধ্বংস করে কাকড়া সংগ্রহ করলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

কাকড়া চাষ কেবল একটি কৃষি বা মৎস্য কার্যক্রম নয়; এটি হতে পারে দারিদ্র্য বিমোচন, যুব কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সময়োপযোগী নীতি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে বাংলাদেশ খুব অল্প সময়েই কাকড়া উৎপাদন ও রপ্তানিতে একটি সম্ভাবনাময় দেশে পরিণত হতে পারে।

অতএব, দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও বৈশ্বিক বাজারের সুযোগকে কাজে লাগাতে কাকড়া চাষে এখনই সরকারের সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতিও পাবে নতুন গতি।

লেখক: সাংবাদিক,মহাকাল গবেষক,মানবাধিকার কর্মী ও সমাজ সংস্কারক।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!