হোম / জাতীয়
জাতীয়

ওসমান হাদির ওপর হামলা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:০৮ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৪০৪৯০ বার


নিউজ ডেস্কঃ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির ওপর হামলাকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বানচালের গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা কোনো অবস্থাতেই এই ধরনের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না। যত ঝড়–তুফানই আসুক, কোনো শক্তিই আগামী নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবে না।”

শুক্রবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান মেয়াদকালের অন্যতম উদ্বেগজনক ঘটনা। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ওপর একটি সুপরিকল্পিত আঘাত। “পরাজিত শক্তি দেশের অস্তিত্বকেই চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে,” যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের হামলার চেষ্টা যেকোনো মূল্যে ব্যর্থ করা হবে। জাতির ওপর অপশক্তির আঘাত কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। দেশের আপামর জনতার সহযোগিতায় আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করব।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ উপদেষ্টা পরিষদের অন্যান্য সদস্য এবং পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান জানান, ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

হামলার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যে করেই হোক দ্রুততম সময়ে হামলাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।” তিনি জনগণকে ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।

পুলিশ সভায় জানায়, হামলার স্থান থেকে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হামলাকারীরা যেন দেশ ছাড়তে না পারে, সে বিষয়ে সীমান্তে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার কারণে যাঁরা সম্ভাব্য টার্গেটে পরিণত হতে পারেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য খুব শিগগিরই একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সম্ভাব্য অপরাধীদের অবস্থান চিহ্নিত করে অভিযান জোরদার করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টা উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিগগিরই দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও সভায় জানানো হয়।


বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!