হোম / অপরাধ
অপরাধ

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের ধৃষ্টতা অনিয়ম আর দুর্নীতির বিচারদাবী

প্রকাশ: ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ১২৩ বার
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের ধৃষ্টতা অনিয়ম আর দুর্নীতির বিচারদাবী
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের ধৃষ্টতা অনিয়ম আর দুর্নীতির বিচারদাবী

স্টাফ রিপোর্টার :
রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালক ডা: গওসুল আজিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে মহাপরিচালকের আদেশ অমান্য, ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার অসদচারণ সর্বপরি তদন্তের নামে সাংবাদিক ও স্টাফদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ হত্যার হুমকীতে সাংবাদিকদের থানায় ডাইরীর ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন পরিচালকের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানিয়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত বিগত সরকারের ফ্যাসিস্টদের দোসর প্রধান সহকারী মোঃ ইউনুছ আলী ও উচ্চমান সহকারী আকতারুজ্জামান এর লাগামহীন অনিয়ম ও নৈরাজ্যর প্রতিবাদে শতাধিক সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ কর্মচারীরা রংপুরের পরিচালক বরাবর অভিযুক্ত দুজনের বদলীর দাবী জানিয়ে একটি আবেদন করেন। দীর্ঘদিন এর কোন ব্যবস্থা না নিয়ে পরিচালক কালক্ষেপন করতে থাকেন। এতে স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ ও হাসপাতালের স্টাফদের চাপের মুখে গত ৮ ডিসেম্বর লালমনিরহাট সিভিল সার্জনকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি সদর উপজেলার স্বাস্থ্য পপ কর্মকর্তাকে সভাপতি করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি গত ১৭ ডিসেম্বর সরেজমিন তদন্তে সত্যতা পেলে শুরু হয় লুকোচুরী। অভিযোগ রয়েছে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় তদন্ত ধামাচাপা দিতে গিয়ে করতে থাকেন বিভিন্ন অসংগতি। শুরু হয় হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা। এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয় দেশের বিভিন্ন পত্রিকায়। টনক নরে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের।
স্বাস্থ্য সচিবের নির্দেশে মহাপরিচালক গত ২৪ ডিসেম্বর চিঠি দেন রংপুর বিভাগীয় পরিচালককে। যার স্মারক নং ৪৫.০০.০০০.১৬০.২৭.০০৩.২৪.১০০৮। এতে পরিচালককে সভাপতি করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চ পর্যায়ে কমিটি করেন। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ফ্যাসিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য।
রংপুর বিভাগীয় পরিচালক গওসুল আজিম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি আসেন ৪ জানুয়ারী সকাল ১১টায়। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে এসেই দৈনিক দিন কালের কুড়িগ্রামের স্টাফ রিপোর্টার হারুন উর রশীদ সম্পর্কে কুৎসিত মন্তব্যের এক পর্যায় তার অনুপস্থিতিতে অফিসের বিভিন্ন স্টাফদের সামনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ হত্যার হুমকী ও তাকে তার বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে রংপুরে যাওয়ার হুমকী দেন। পরে অভিযুক্ত দুজনকে সাথে নিয়ে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে চাকুরীচ্যুত, বদলীর হুমকী দিয়ে কোনরুপ তদন্ত না করে সিভিল সার্জন কুড়িগ্রাম অফিসে ভুড়ীভোজ করে রংপুর চলে যান। সাংবাদিককে গালিগালাজ ও হত্যার হুমকীর ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক পরিচালক গওসুল আজম চৌধুরী ডাঃ ওয়াজেদ আলী ও ডাঃ আসিফ ফেরদৌস কে বিবাদী করে কুড়িগ্রাম সদর থানায় তাকে প্রাণ নাশের হুমকী ও বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ও নিরাপত্তার জন্য একটি সাধারন ডায়েরী করেন। যার আবেদন ট্রাকিং নং-টউটওঙঈ তারিখ ৪/১/২০২৬।
উল্লেখ্য বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আস্থা ভাজন হয়ে ১৬টি বছর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়ে বগুড়ার সিভিল সার্জন। পরে মহাপরিচালকের দপ্তরে একাধিক বিভাগে দীর্ঘ দিন পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জুলাই বিপ্লবের পর ফ্যাসিস্ট খোলস পাল্টিয়ে এখন তিনি রংপুর বিভাগীয় পরিচালক। নিজ এলাকা রংপুরে এসে শুরু করেন নিয়োগ বাণিজ্য। সে সাথে ডাঃ ওয়াজেদের পরামর্শে জড়িয়ে পড়েন বদলী বাণিজ্যে।

রংপুর বিভাগে মোট ৫৮টি উপজেলাসহ সদর হাসপাতাল রয়েছে ৬৬টি। সেখানে প্রতি বছর রোগীদের ডায়েট, এম এস আর, আউট সোর্সিং সহ আনুসাঙ্গিক টেন্ডার ক্রয়ে অনুমোদনের জন্য ৩ লাখ টাকার কমে তিনি অনুমোদন দেননা। শুধু তাই নয় সরকারের প্রচলিত টেন্ডার পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ গেজেট ৪ মে ২০২৫ এর ক্রমিক নং ২৮ এর ২০০৬ সনের ২৪ নং আইনের ধারা ৬৫ এর সংশোধন এর আইনের ধারা ৬৫ উপধারা (১) এর পরিবর্তে উপধারা (১) লঙ্ঘন করে তিনি শত কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহন করেছেন। এ আইনে   ই-জিপি পোর্টাল প্রক্রিয়া যোগ্য সকল প্রকার সরকারী ক্রয় ইলেকট্রনিক পরিচালন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার জন্য সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তিনি তার চাহিদামত ঠিকাদার কে কাজ বাগিয়ে দিতে পরিকল্পিত ভাবে ইজিপি প্রক্রিয়ায় টেন্ডার না করে বিভাগের সকল উপজেলা ও জেলার হাসপাতাল গুলোতে অফলাইনে টেন্ডার করেন এবং তড়িঘড়ি করে অনুমোদনও দিয়েছেন। এতে সরকারের প্রায় কয়েক কোটি টাকার গচ্ছা হয়েছে। অপর দিকে জেলার সিভিল সার্জন অফিসের জন বল নিয়োগে পদাধিকার বলে তিনি সভাপতি। আর এই সুবাধে রংপুরের বাসা থেকে নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালনা করেছেন বলে ভুক্ত ভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিকদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক কে হত্যার হুমকি তুলে নিয়ে যাওয়ার হুকীর তীব্র নিন্দ্রা জানিয়ে পরিচালককে আইনের আওতার এনে দৃৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। অন্যথায় সর্বস্থরের মানুষকে নিয়ে আন্দোলনের ডাকও দিয়েছেন। রংপুর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সভাপতি মোঃ সালেকুজ্জামান ও সাধারন সম্পাদক মাজহারুল মান্নান পরিচালক এর এহেন কান্ড জ্ঞানহীন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাকে বরখাস্তসহ আইনের আওতায় আনার জন্য সংশিষ্ঠ কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় যে কোন দায় দায়িত্ব বহন করার হুমকি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!