হোম / অপরাধ
অপরাধ

মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যা: পরিচয়হীন গৃহকর্মীই একমাত্র সন্দেহভাজন, তদন্তে নতুন তথ্য পুলিশের

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০০ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৭৩৪২ বার

নিউজ ডেস্কঃ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবনের সপ্তম তলায় মা–মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ওই বাসার গৃহকর্মীর দায়িত্বে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় নারীই এখন পর্যন্ত একমাত্র সন্দেহভাজন। তবে এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, চার দিন আগে লায়লা আফরোজের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন ওই নারী। প্রতিদিনই তিনি বোরকা পরে বা মুখমণ্ডল ঢেকে বাসায় যাতায়াত করতেন। ফলে ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায় তার মুখ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। নিহত লায়লা আফরোজ ও তার কিশোরী মেয়ে নাফিসা ছাড়া আর কেউ তার চেহারা দেখেননি। তাই তার নাম–পরিচয়, ফোন নম্বর বা ব্যক্তিগত কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি।

সোমবার সকালে কর্মস্থল উত্তরায় যান লায়লার স্বামী আজিজুল ইসলাম, যিনি পেশায় শিক্ষক। কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর তিনি স্ত্রীকে ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন। পরে সকাল ১১টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি দেখেন, স্ত্রী লায়লা আফরোজ (৪৮) বাসার ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। বাসার প্রধান ফটকের কাছে কিশোরী মেয়ে নাফিসা নাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)–কে গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আজিজুল ইসলাম দেখেন, গৃহকর্মী সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে বাসা থেকে বের হন। বের হওয়ার সময় তিনি একটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যান।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারীকে একমাত্র আসামি করে সোমবার রাতে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন আজিজুল ইসলাম।

ঘটনার পর ভবনের একজন নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল পুলিশ। তিনি জানিয়েছেন, চার দিন আগে এক নারী কাজের খোঁজে ভবনের সামনে এলে লায়লা আফরোজের পরিবারের অনুরোধে তাকে বাসায় নিয়ে যান। তবে তার সঙ্গে পরিচয় বা ব্যক্তিগত কোনো যোগাযোগ আগেই ছিল না। নিহতদের স্বজনেরাও জানান, গৃহকর্মীর পরিচয় বা ফোন নম্বর জানতে চাইলে তিনি নানা অজুহাত দেখিয়ে কোনো তথ্য দেননি।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, গৃহকর্মীর পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকলেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের পর মা–মেয়ের মরদেহ মঙ্গলবার নাটোরে দাফন করা হয়। নবাব সিরাজ–উদ–দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা শেষে তাদের স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। মরদেহ পৌঁছালে স্বজন ও প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানাজার আগে স্বজনেরা দ্রুত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!