রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের মোগলবাসা নৌকাঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এবার পরিকল্পিতভাবে এক সাংবাদিককে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, পরিচয় যাচাইয়ের নামে হয়রানি এবং মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক এ কে এম হাসানুজ্জামান কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার (১ জুলাই) সকালে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কুড়িগ্রাম সদর থেকে রৌমারীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে মোগলবাসা নৌকাঘাটে পৌঁছান তিনি। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন অপরিচিত যুবক তাকে বিভিন্ন কথা বলে নৌকা থেকে দূরে একটি নির্জন ও পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই আরও কয়েকজন যুবক অবস্থান করছিল।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে নিয়ে তার সাংবাদিক পরিচয়পত্র ও ফেসবুক প্রোফাইল দেখতে চাওয়া হয়। এরপর নানা ধরনের প্রশ্নের পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা একটি ছোট ব্যাগে মাদক রয়েছে বলে দাবি করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি উপস্থিত সাধারণ মানুষের সহায়তা চাইলে সবার সামনে ব্যাগ তল্লাশি করা হয় এবং সেখানে কোনো অবৈধ বস্তু পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের উপস্থিতি বাড়তে থাকলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নৌকা চালক মাসুদ রানা বলেন, “আমি বিষয়টি বুঝতে পেরে সেখানে এগিয়ে যাই। আমাকে দেখে তারা দ্রুত সরে পড়ে। এ ধরনের কয়েকজন যুবককে প্রায়ই ঘাট এলাকায় জটলা করতে দেখা যায়। বিষয়টি আমি ঘাটের ইজারাদারকেও জানিয়েছি।”
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির দাবি, মোগলবাসা নৌকাঘাটে দীর্ঘদিন ধরে কিছু যুবকের সন্দেহজনক বিচরণ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখানো, অযথা জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদকের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব রৌমারী শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, “একজন সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও যদি এভাবে হয়রানির শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌকাঘাটে নিয়মিত পুলিশ টহল ও নজরদারি বাড়ানো জরুরি।”
ঘাটের ইজারাদার ও স্থানীয় চেয়ারম্যান বাবু মিয়া বলেন, “বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আমার কাছে আসেনি। তবে অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে নজর রাখা হবে।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “লিখিত অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মোগলবাসা নৌকাঘাট কুড়িগ্রাম-রৌমারী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন। তাই ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিয়মিত পুলিশি টহল এবং অভিযোগে উল্লিখিত চক্রের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক, যাত্রী ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

Leave a Reply