মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
আর মাত্র একদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে উৎসবের আমেজে ঘরে ফিরছে মানুষ। ভোটের ছুটি উপলক্ষে বাড়তি ভাড়া দিয়েও ঈদের আনন্দের মতো ছুটছে ঘরমুখো মানুষ। এর ফলে মানিকগঞ্জের আরিচা ও পাটুরিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাটে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ঘাট এলাকায় যাত্রীদের ভিড় দেখে মনে হচ্ছে যেন ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানুষের স্রোত। এ সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু পরিবহন শ্রমিক যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে সরকার মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ছুটি ঘোষণা করে। ছুটি পেয়ে সাভার-আশুলিয়া এলাকায় কর্মরত হাজারো শ্রমজীবী মানুষ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট হয়ে নিজ নিজ গ্রামের পথে রওনা হন। এতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঘাট দু’টিতে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে। অনেক যাত্রীকে নদী পারাপারের জন্য স্পিডবোটের টিকিট কাটতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
ঘরমুখো যাত্রীরা জানান, সোমবার ছিল পোশাক কারখানার শ্রমিকদের শেষ কর্মদিবস। নির্বাচন উপলক্ষে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ একযোগে গ্রামের পথে রওনা দেওয়ায় পরিবহন মালিকরা কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে।
পাবনার বেড়াগামী যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারিনি। এবার ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে, তাই বাড়ি যাচ্ছি। নদী পার হতে লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট হলেও এর মধ্যে আনন্দ আছে। এটা যেন ঈদের আনন্দের মতোই লাগছে।
নবীগঞ্জ থেকে ইশ্বরদীগামী যাত্রী আলমগীর জানান, জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু ১২০ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করলে পরিবহন শ্রমিকরা নানা কথা শোনাচ্ছে। তিনি ন্যায্য ভাড়া নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আরেক যাত্রী আবুল কালাম বলেন, ঢাকার গাবতলী থেকে সেলফি পরিবহনে আরিচা ঘাট হয়ে পাবনা যাচ্ছি। আগে যেখানে ২০০ টাকা ভাড়া ছিল, সেখানে এখন ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে সাভার থেকে আরিচার ভাড়া ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
পাবনার যাত্রী আব্দুল আলীম বলেন, অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে অনেক শ্রমিক বাড়ি ফিরতে পারছেন না। আমরা ছুটি পেলেও এখনো বেতন পাইনি, বিকাশ থেকেও টাকা তুলতে পারছি না। তার ওপর কয়েকগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টকর।
তবে বাস শ্রমিক ফারুক হোসেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় এক পাশ থেকে খালি যেতে হয়। সে কারণে কিছুটা বেশি ভাড়া নেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি, তবে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আমাদের পক্ষ থেকে বাড়তি ভাড়া না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকার গাবতলী এলাকায় নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ভোটের ছুটিতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
পড়া হয়েছে: ৪ বার
বিজ্ঞাপন

Leave a Reply