হোম / কৃষি ও প্রকৃতি
কৃষি ও প্রকৃতি

বিলুপ্তপ্রায় খেজুর গাছ ও রসসংগ্রহে ব্যস্ত দিঘলিয়ার গাছি ইয়ার আলী

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৬৬২ বার


দিঘলিয়া (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
‘দিঘলিয়ার যশ, খেজুরের রস’—শীতের আগমনী বার্তা দিতেই খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই রস আহরণ ও গুড় তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছি ইয়ার আলীসহ আরও অনেকে।
দিঘলিয়া উপজেলার আখন্দ গ্রুপের (সেফ ফুড) প্রতিষ্ঠাতার ঘের এলাকার খেজুর গাছ থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করছেন ইয়ার আলী। জীবনের পথচলায় নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তা দিয়ে গুড় তৈরি করেই জীবিকানির্বাহ করে আসছেন।
ইয়ার আলী জানান, তিনি খেজুর রস সংগ্রহ করে এক ভাগ মালিকপক্ষকে দেন এবং অপর ভাগ নিজে এলাকাভিত্তিক মানুষের কাছে বিক্রি করেন। বছরে প্রায় তিন মাস শীতকালজুড়ে তিনি এই কাজ করেন। বাকি নয় মাস বিভিন্ন শ্রমনির্ভর কাজে যুক্ত থেকে সংসার চালান। শীত এলেই তাই দিঘলিয়ায় যেন ব্যস্ততার নতুন রূপ নেয় গাছিদের জীবন।
ভোরের আলো ফোটার আগেই ধারালো দা হাতে, পিঠে ঝোলানো মাটির হাঁড়ি নিয়ে গাছি ইয়ার আলীসহ অনেকেই ছুটে যান খেজুর গাছের কাছে। গাছের মাথায় উঠে সাবধানে কাটা হয় মগজ, যাতে রাতের নীরবতায় ফোঁটা ফোঁটা রস ঝরে পড়ে হাঁড়িতে। সকালের পাখির ডাকে শুরু হয় রস সংগ্রহের কাজ। এক ফোঁটা রসও নষ্ট না করে হাঁড়িতে জমা হয় সুমিষ্ট অমৃত।
সংগৃহীত রস থেকে তৈরি হয় লালি, পাতলা ঝোলা গুড়, দানাদার ও পাটালি গুড়। প্রতিটি গুড়ের টুকরোতে মিশে থাকে গাছিদের শ্রম, ঘাম ও জীবনের গল্প। শীত যত বাড়ে, রস তত মিষ্টি হয়ে ওঠে—যেন প্রকৃতি নিজ হাতে উপহার দেয় এই স্বাদ।
তবে এই মধুরতার আড়ালেই রয়েছে গভীর উদ্বেগ। একসময় পথের ধারে, পুকুরপাড়ে, ক্ষেতের আইলে অসংখ্য খেজুর গাছ দেখা যেত। প্রতিটি বাড়িতেই ঝুলত রসের হাঁড়ি, পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত গুড়ও তৈরি হতো। খেজুর গাছের পাতা দিয়ে তৈরি হতো পাটি, ডালপালা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
গাছি ইয়ার আলী আক্ষেপ করে বলেন, “দিন দিন খেজুর গাছ কমে যাচ্ছে। যে গাছ একটানা দশ বছর রস দেয়, এমন গাছ এখন খুবই বিরল। গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।”
খেজুর গাছ পর্যবেক্ষণকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রেস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। তাদের মতে, খেজুর গাছ ও রসসংগ্রহের এই ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজন সচেতনতা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ, না হলে নীরবেই হারিয়ে যাবে গ্রামবাংলার এক অমূল্য সংস্কৃতি।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!