হোম / কৃষি ও প্রকৃতি
কৃষি ও প্রকৃতি

ডুমুরিয়ার সরিষা ক্ষেতে মৌবাক্স, মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০৫ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৪১৩ বার


খুলনা প্রতিনিধিঃ
ডুমুরিয়া (খুলনা), ২৪ ডিসেম্বর
ডুমুরিয়ার বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল জুড়ে এখন হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ। সোনালি সরিষা ক্ষেতের মাঝে বসানো হয়েছে ২৪৬টি মৌবাক্স। সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি ছেড়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। এতে একদিকে মৌচাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে মৌমাছির পরাগায়ণের ফলে সরিষা চাষিরাও পাচ্ছেন বাড়তি ফলন।
সাতক্ষীরার মেসার্স মাহিম মৌ খামারের মৌচাষি মিজানুর রহমান গত প্রায় ১৪ দিন ধরে ডুমুরিয়ার সরিষা ক্ষেতে মৌবাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ ও বাজারজাত করছেন। তিনি জানান, প্রতিটি মৌবাক্স থেকে প্রতি ১০ দিন পরপর মধু সংগ্রহ করা হয়। এ পর্যন্ত ২৪৬টি মৌবাক্স থেকে প্রায় ৩৫ মণ মধু সংগ্রহ করা হয়েছে।


মৌবাক্স পরিচর্যাকারী শ্রমিক মো. ইসলাম, কবির ও হাসান জানান, প্রতিটি বাক্স থেকে গড়ে চার কেজি করে মধু পাওয়া যায়। সংগৃহীত মধু স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সরবরাহ করা হচ্ছে।
এক যুগের বেশি সময় ধরে মৌচাষে যুক্ত মিজানুর রহমান বলেন, গত বছর পাঁচ মাসে তিনি ২৪৬টি মৌবাক্স থেকে প্রায় ১২০ মণ মধু সংগ্রহ করেছিলেন। চলতি বছরও একই পরিমাণ মধু পাওয়ার আশা করছেন তিনি। প্রতি কেজি মধু ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এই মধু দেশের এসিআই ও এপি কোম্পানির পাশাপাশি ভারতের ডাবর কোম্পানির কাছেও সরবরাহ করা হয়।
মৌচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি মৌবাক্সে ছয় থেকে আটটি ফ্রেম থাকে এবং একটি রানী মৌমাছির সঙ্গে ৫০ হাজারের বেশি মৌমাছি থাকে। মৌমাছিগুলো প্রায় চার কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত গিয়ে ফুলের মধু সংগ্রহ করতে পারে। সাধারণত পাঁচ মাস দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মধু সংগ্রহ করা হয়।
কৃষি বিভাগ জানায়, অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে সরিষা ফুল থেকে সবচেয়ে বেশি মধু সংগ্রহ করা যায়। মৌমাছির পরাগায়ণের কারণে সরিষার ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর খুলনা জেলায় ৪১ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিল। সে সময় ৩৪ জন মৌচাষি ৫ হাজার ৬৪৩টি মৌবাক্স থেকে প্রায় ২৭ টন মধু সংগ্রহ করেন। চলতি বছর জেলায় সরিষা আবাদ বেড়ে ৪১ হাজার ৫৫০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এ বছর ৪৫ জন মৌচাষি ৭ হাজার ২৮৭টি মৌবাক্স স্থাপন করেছেন।
এ বিষয়ে খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “মৌবাক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহে মৌচাষি ও সরিষাচাষি উভয়ই লাভবান হন। মৌমাছির পরাগায়ণের ফলে ফসলের উৎপাদন বাড়ে। এবার সরিষার আবাদ বেশি হওয়ায় মধু সংগ্রহও বাড়বে বলে আশা করছি।”

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!