চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামে উদ্ধারকৃত প্রায় ৯০ হাজার ইয়াবা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশের এক পরিদর্শক ও দুই উপপরিদর্শক (এসআই)সহ মোট ১০ জন পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় দুই এসআইসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) তদন্ত প্রতিবেদন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় সিএমপি।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে নগরীর শাহ আমানত নতুন ব্রিজ এলাকায় বাকলিয়া থানার আওতায় ঢাকাগামী ‘দেশ ট্রাভেলস’ পরিবহনে তল্লাশি চালায় পুলিশ। কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ওই বাসে তল্লাশির সময় ইমতিয়াজ হোসেন নামের এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে ৯টি বক্সে মোট ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা।
আটক ইমতিয়াজ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২–এর বিচারক রোকেয়া আক্তারের গানম্যান বলে দাবি করেন। তদন্তে উঠে আসে, বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা উদ্ধারকৃত ইয়াবা যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে রেখে তাকে ছেড়ে দেন।
২২ ডিসেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘চট্টগ্রামে উদ্ধার সোয়া ২ কোটি টাকার ইয়াবা গায়েব!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে সিএমপি। শুরুতে চেকপোস্ট বসানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও পরবর্তীতে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ইয়াবা উদ্ধার ও আত্মসাতের ঘটনা স্বীকার করেন অভিযুক্তরা।
তদন্তে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন— বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, এসআই মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার, এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন, এএসআই সাইফুল আলম, মো. জিয়াউর রহমান, মো. সাদ্দাম হোসেন, এনামুল হক, কনস্টেবল মো. রাশেদুল হাসান ভূঞা, নারী কনস্টেবল উম্মে হাবিবা স্বপ্না এবং কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন। এদের মধ্যে পরিদর্শক তানভীর আহমেদ ও কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন ছাড়া বাকি ৮ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) ও তদন্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি) বিধি-৮৮০ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, উদ্ধারকৃত ইয়াবা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ না করে আত্মসাৎ করা হয় এবং দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়—যা গুরুতর শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।
এদিকে আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় পৃথক তদন্ত করছেন সিএমপির উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া। আগামী ১২ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপরাধ
চট্টগ্রামে ৯০ হাজার ইয়াবা আত্মসাৎ: দুই এসআইসহ ৮ পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত
প্রকাশ: ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ণ
পড়া হয়েছে: ৪০৪ বার
বিজ্ঞাপন

Leave a Reply