হোম / সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা: গণতন্ত্র রক্ষায় দায়িত্বশীল প্রশাসন ও সন্ত্রাস দমনের অপরিহার্যতা

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৩৫৭৫২ বার


আজ ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দিনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাইলফলক—কারণ এ দিন থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা সুস্পষ্টভাবে নতুন যাত্রা শুরু করে। কিন্তু এ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, প্রতি নির্বাচনের সময় নানা অপতৎপরতা, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং নির্বাচনকে নস্যাৎ করার চেষ্টা বহুবারই দেখা গেছে। তাই এ মুহূর্তে প্রশাসনের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়—রাষ্ট্র, সমাজ এবং গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো দলীয় সন্ত্রাস, সহিংসতা, নাশকতা কিংবা ভোটার আতঙ্ক জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ক্ষমতার প্রতিযোগিতা কখনোই জনগণের ভোটাধিকারকে বিপন্ন করতে পারে না। গণতন্ত্রের প্রাণভোমরা হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন; আর এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে তা শুধু একটি দলের ক্ষতি নয়—রাষ্ট্রের সামগ্রিক অগ্রগতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে যে, পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী পরিবেশকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তাই সুধীজন, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট মহলের স্পষ্ট নির্দেশ—প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে মাঠে নামতে হবে। দলীয় পরিচয় নয়, আইনের শাসনই হবে মূল বিবেচ্য। যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত, নির্বাচনকে বানচাল করতে চায় বা জননিরাপত্তাকে বিপন্ন করে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
এক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো, রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। কারণ নির্বাচন কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়—এটি জাতীয় ঐক্য, জনগণের আস্থা এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যত দিকনির্দেশনার প্রতীক।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রয়োজন শান্তি, স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচন পরিচালনার গ্যারান্টি। রাষ্ট্রের স্বার্থে প্রশাসনকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে—আর নাগরিক সমাজের দায়িত্ব হলো এসব পদক্ষেপকে নৈতিক সমর্থন দেওয়া।
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে চাইলে এই মুহূর্তে সহিংসতা নয়, শান্তি; দলীয় স্বার্থ নয়, রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে এখন সময় এসেছে—দেশের প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও জনগণ সবাই মিলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার।
এটাই গণতন্ত্রের পথ, এটাই জাতির আগামীর ভবিষ্যত।

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক, গবেষক,মাসান টিভি।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!