হোম / অপরাধ
অপরাধ

কুড়িগ্রামে খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: 28 October 2026, 03:03 AM পড়া হয়েছে: ৬৬ বার
কুড়িগ্রামে খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
কুড়িগ্রামে খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার,কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামে সরকারি চাল ও ধানের মজুতে অনিয়ম এবং দুই কোটি টাকার বেশি মূল্যের খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রামে মামলাটি দায়ের করা হয়। দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

মামলার আসামিরা হলেন- কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরীফ আহমেদ, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এলএসডির সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হালিমুর রহমান এবং কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ হামিদুল হক।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহের নথি পর্যালোচনা এবং বাস্তব মজুত যাচাইয়ে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে নথিতে থাকা চালের সঙ্গে বাস্তব মজুতের ঘাটতি, সংগ্রহ করা ধানের হিসাবের অসংগতি এবং বিল পরিশোধের পরও গুদামে না পাওয়া ধানের বিষয় রয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের শিশু নিকেতন ও খলিলগঞ্জ ব্লকে অভিযান চালায়। এ সময় খামাল কার্ড, গুদাম রেজিস্টার, সেন্ট্রাল লেজার ও গুদাম লেজারের তথ্যের সঙ্গে বাস্তব মজুত মিলিয়ে দেখা হয়। এতে নথিভুক্ত মজুতের তুলনায় ৪২ দশমিক ২০৫ মেট্রিক টন চাল কম পাওয়া যায়। প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য ৫৮ হাজার ৩১৮ টাকা ৯৮ পয়সা হিসাবে এর মূল্য দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৫২ টাকা।

এছাড়া খলিলগঞ্জ ব্লকের টিএফএস-৭ নম্বর গুদামে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৭১১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের তথ্য নথিতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৪০ মেট্রিক টন ধানের বিল পরিশোধের তথ্য ছিল। যাচাইয়ে ১৯০ মেট্রিক টন ধান গুদামে পাওয়া গেলেও বাকি ৫০ মেট্রিক টনের সন্ধান মেলেনি। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, ধানগুলো ছাঁটাইয়ের জন্য মেসার্স এলাহী অটো রাইস মিলে পাঠানো হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিটি সরেজমিনে ওই মিল পরিদর্শন করলে মালিক মো. মুকুল সরকার জানান, তার মিলে কোনো ধান পাঠানো হয়নি। 

একই গুদামের নথিতে থাকা আরও ৪৭১ মেট্রিক টন ধানের বাস্তব মজুত বা সংগ্রহের পক্ষে সমর্থনকারী তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন ধানের মূল্য ৩৪ হাজার টাকা হিসাবে এসব ধানের মূল্য এক কোটি ৬০ লাখ ১৪ হাজার টাকা। চাল ও ধানের মজুতসংক্রান্ত এসব অসংগতির কারণে মোট ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা  মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া শিশু নিকেতন ব্লকের এসএফ-৩ নম্বর গুদামের পশ্চিম গেটসংলগ্ন স্থানে নথিবহির্ভূতভাবে ১১৯ মেট্রিক টন চালের মজুত পাওয়া যায়। এ চালের সংগ্রহ, ওজন, মান, মজুত ও পরিবহনসংক্রান্ত বৈধ নথি দেখাতে পারেননি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ। প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য হিসাবে এর দাম ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৯ টাকা। গত ১২ জানুয়ারি চালগুলো জব্দ করে জিম্মায় দেওয়া হয়।

দুদকের অভিযোগ, চার কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহসংক্রান্ত রেকর্ডে অসংগতি সৃষ্টি ও ব্যবহার করে খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছেন। এ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি নথিবহির্ভূত চাল মজুতের ঘটনায় শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(খ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!