কচাকাটা (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার কুমেদপুর পাতালীপাড়ায় রুমি বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর রুমিকে হত্যা করে মরদেহ ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা ও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশ মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত রুমি বেগম কচাকাটা থানার নামাচর এলাকার মো. শুকুর আলী ও মোছা. সাজেদার মেয়ে। প্রায় নয় বছর আগে একই এলাকার ফজল হকের ছেলে এনামুল হক (২৫)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে আরিফা (৫) ও ইয়াছিন হোসেন (৩) নামে দুই সন্তান রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ও বিভিন্ন মালামাল দেওয়া হয়েছিল। পরে আরও যৌতুকের দাবিতে রুমিকে মারধর ও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে কয়েক দফা পারিবারিকভাবে আপস-মীমাংসার পর তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, প্রায় ২০ দিন আগে রুমির পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর স্বামীকে আরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে এনামুল ঢাকায় অবস্থানকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার মোস্তানগর এলাকার বিবি কুলছুম রুপাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর এ নিয়ে রুমির সঙ্গে এনামুলের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল আটটার দিকে কুমেদপুর পাতালীপাড়ার বাড়িতে যৌতুকের দাবিতে রুমিকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যা করে মরদেহ ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে তাঁদের দাবি। খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রুমির মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।
পরে কচাকাটা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মাহিন আহম্মেদ ওরফে শাহীন বাদী হয়ে এনামুল হক (২৫), তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বিবি কুলছুম রুপা (২১), শ্বশুর ফজল হক (৫৫), শাশুড়ি রুপভানু (৪৫) ও আমজাদ হোসেন (৩৫)-এর বিরুদ্ধে কচাকাটা থানায় হত্যা মামলা করেন।
কচাকাটা থানা পুলিশ ইতিমধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত এনামুল হক ও বিবি কুলছুম রুপাকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ অর্পণ কুমার দাস বলেন, মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বামী ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply