আনোয়ারুল ইসলাম জুয়েল, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
অদম্য বালু উত্তোলনকারী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধের ডাম্পিংকৃত সিসি ব্লক তুলে অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধ ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে পার্শ্ববর্তী এলাকার শতাধিক পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
জানা গেছে, চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কালিরকুড়া টিবাঁধ সংলগ্ন জকরিটারী এলাকায় নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ডাম্পিং করা সিসি ব্লক উঠিয়ে নিয়ে কয়েকটি অবৈধ বালু পয়েন্টে যানবাহন চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব রাস্তা ব্যবহার করে প্রতিদিন ড্রেজার ও বাল্কহেডের মাধ্যমে অবাধে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রহ্মপুত্র নদের কড়ালগ্রাস থেকে চিলমারীকে রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরেরহাট নয়াবশ এলাকা থেকে রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ বাজারের ভাটি পর্যন্ত কয়েক ধাপে ডানতীর রক্ষা বাঁধের পিচিং ও ব্লক ডাম্পিং কাজ সম্পন্ন করা হয়। অথচ একটি প্রভাবশালী অর্থলোভী মহল সেই রক্ষা বাঁধের ব্লকই তুলে নিজেদের স্বার্থে রাস্তা নির্মাণ করে বাঁধকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
জকরিটারী এলাকার বাসিন্দা আলেয়া বেগম, আফরোজা খাতুন, জয়গুন বেগম, আবেদা বেগম, আমিনা, রুপালি, আনিছা, মুক্তা ও লুৎফা বেগমসহ অনেকেই বলেন, “যেভাবে নদী থেকে ব্লক তুলে রাস্তা করা হচ্ছে, তাতে ডানতীর আর রক্ষা হবে না। আমরা সারারাত বালুর গাড়ি ঠেকাতে পাহারা দিয়েছি।”
এলাকাবাসী সহিদুর রহমান, আ. মজিদ, সুকেরু মিয়া, মনজু মিয়া, বিপুল মিয়া, রফিকুল ইসলাম ও হারুন মিয়াসহ অনেকে জানান, বালুর গাড়ি চলাচলে বাধা দিলে ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, রেজাউল করিম, লিটন মিয়া, মাসুদ রানা, রাজু খন্দকার, মনু মিয়া ও ফাসকুরুনীসহ কয়েকজন ব্যক্তি এসব বালু পয়েন্টের সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয়রা আরও জানান, গত কয়েকদিন ধরে শতাধিক নারী-পুরুষ রাত জেগে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের চেষ্টা করলেও প্রভাবশালীদের কারণে তা সফল হয়নি। উপায়ান্তর না পেয়ে অবৈধভাবে নদী প্রতিরক্ষা বাঁধের ব্লক উত্তোলন ও বালু পয়েন্টের রাস্তা নির্মাণের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাকের কাছে লিখিত আবেদন করেন এলাকাবাসী।
আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, “এলাকাবাসীর আবেদন পেয়েছি। ডাম্পিংকৃত ব্লক উত্তোলন ও অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কুড়িগ্রাম
ব্রহ্মপুত্র নদের তীর রক্ষা বাঁধের ব্লক তুলে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ, বর্ষার আগেই ধসের আশঙ্কা, আতঙ্কে এলাকাবাসী
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ণ
পড়া হয়েছে: ৭ বার
বিজ্ঞাপন
সম্পর্কিত খবর
অন্যায়কারীদের ধরুন, মুখ ঢেকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই: পুলিশকে রিজভীর আহ্বান
3 hours আগে
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা: ইসিমন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত
3 hours আগে

Leave a Reply