কলকাতা মাহিত্য প্রতিনিধি
ঘটনা ও ঘনঘটায় জীবনের অনেক কিছু বদলে যায়। বদলায় সময়, বদলায় প্রেক্ষাপট, বদলায় মানুষও। কিন্তু যে বিষয়গুলো অটল থাকে, তা হলো বিশ্বাস ও আন্তরিকতা। ঠিক সেই বিশ্বাস আর আন্তরিকতার শক্তিতেই স্মরণীয় হয়ে থাকলো ১৮ জানুয়ারি ২০২৬—কলেজ স্ট্রিট সংলগ্ন মহাবতী সোসাইটি হলে অনুষ্ঠিত কবিতার তাঁতঘর সাহিত্য পরিবারের চতুর্থ বার্ষিক অনুষ্ঠান।
কলেজ স্ট্রিটের ঐতিহ্যবাহী সাহিত্যিক পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি বার্ষিক উৎসব নয়, বরং সাহিত্যপ্রেমী মানুষদের এক হৃদ্যতাপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয়। কবিতা, অনুভব, স্মৃতি ও দায়বদ্ধতার সম্মিলনে অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল এক অনন্য আবহ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরাতুন নাহার। সাহিত্যের সামাজিক দায়িত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে তাঁর বক্তব্য উপস্থিত শ্রোতাদের নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরণ্যক বসু। তিনি সাহিত্যচর্চায় সততা, নিষ্ঠা ও দীর্ঘমেয়াদি সাধনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে কবিতার তাঁতঘর পরিবারের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন একজন সাহিত্যকর্মী।
অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে কবিতার তাঁতঘর সাহিত্য পরিবারের আন্তরিক সংগঠনী শক্তি। বিশেষ করে শিবাণী দে ও শতমন্যু দে’র নিরলস পরিশ্রম ও অকৃত্রিম আন্তরিকতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। অতিথি আপ্যায়ন, মঞ্চ পরিচালনা থেকে শুরু করে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় ছিল সুপরিকল্পিত ও মানবিক ছোঁয়া।
অনুষ্ঠানের অন্যতম স্মরণীয় দিক ছিল মহুলের প্রকাশ। তাঁর অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি অনুষ্ঠানের আবহকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। সাহিত্য যে কেবল প্রকাশের বিষয় নয়, বরং অনুভব, দায় ও সম্পর্কের জায়গা—সেটিই যেন বারবার প্রতিফলিত হয় পুরো আয়োজন জুড়ে।
কবিতার তাঁতঘর সাহিত্য পরিবার প্রমাণ করেছে, স্বতঃস্ফূর্ততা ও লক্ষ্যে অবিচল থেকে আন্তরিকভাবে সাহিত্যসেবা করা সম্ভব। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জাঁকজমক নয়, বরং বিশ্বাস, ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতাই তাদের পথচলার মূল শক্তি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন—সাহিত্যসেবার আদর্শকে সামনে রেখে কবিতার তাঁতঘর সাহিত্য পরিবার আগামীর পথেও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে। একজন সাধারণ সাহিত্যঅনুরাগী হিসেবেও কবিতার তাঁতঘর পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
স্মৃতি ও প্রাপ্তির ঝুলি নিয়ে গভীর রাতে বাড়ি ফেরেন অংশগ্রহণকারীরা। মনে থেকে যায় একটি দিন—যেখানে বিশ্বাস ও আন্তরিকতা সাহিত্যের সঙ্গে মিশে এক অনন্য অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Reply