ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ মোটরসাইকেল আটক অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত এই অভিযানে হেলমেট না পরা, বৈধ কাগজপত্র না থাকা ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে অধিকাংশ মোটরসাইকেল চালকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে।
ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এ অভিযান। তবে হেলমেট না থাকায় ব্যাপক হারে মামলা দেওয়ার সুযোগে উপজেলায় নতুন এক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে হেলমেট চুরির হিড়িক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুরুঙ্গামারী বাজার, বাসস্ট্যান্ড, সরকারি দপ্তর এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পার্কিং করা মোটরসাইকেল থেকে পরিকল্পিতভাবে হেলমেট চুরি হচ্ছে। দিনের বেলাতেও মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেলে ঝোলানো বা সিটের ওপর রাখা হেলমেট চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক রকিবুল হাসান রকি জানান,“বাজারে এসে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য বাইক রেখে কাজে যাই। ফিরে দেখি হেলমেট নেই। সাইদুল ইসলাম নামে আরেক মোটর সাইকেল চালক বলেন,“আগে এমন চুরি তেমন ছিল না। এখন হেলমেট থাকলেও নিরাপদ না। চুরি হলে আবার নতুন হেলমেট কিনতে হয়, না হলে মামলা।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বলছেন, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন অবশ্যই জরুরি, তবে হঠাৎ করে কঠোর অভিযান চালু হওয়ায় চোর চক্র বিষয়টি সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে। অনেকের ধারণা, চুরি হওয়া হেলমেটগুলো খুব কম দামে সস্তায় হেলমেট ছাড়া মোটর সাইকেল চালকদের নিকট বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে সচেতন মহলের মত,ট্রাফিক অভিযানের পাশাপাশি বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, হেলমেট চোর চক্র চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার,মোটরসাইকেল পার্কিং ব্যবস্থায় সিসিটিভি ও পুলিশ টহল জোরদার করা জরুরি।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সাধারণ মানুষ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, একই সঙ্গে হেলমেট চুরির মতো নতুন অপরাধ দমনে প্রশাসনের সমন্বিত ও দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
জনগণের প্রত্যাশা আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে।

Leave a Reply