–এম এ হক
দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। রাজনীতি ও ক্ষমতার দৌরাত্ম্যের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ প্রায়ই নীরব দর্শক হয়ে থেকে যায়। নির্বাচন, উন্নয়ন প্রকল্প, আইন প্রণয়ন কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—সবই প্রভাবশালীদের স্বার্থ, দৌরাত্ম্য ও দূর্ণীতির খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে। ফলস্বরূপ, জনস্বার্থ ও সমাজকল্যাণ প্রায়শই শূন্যে হারিয়ে যায়।
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিযোগিতা এবং প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের কারণে আইন প্রয়োগ ও ভোটার নিরাপত্তা, সমাজসেবা, আইনশৃঙ্খলা—এই সবই প্রভাবশালীদের স্বার্থের কাছে প্রাধান্য হারায়। মানুষ নিয়মিত অবিচার, অনিয়ম এবং দুর্নীতির শিকার হয়। প্রশাসন যদি রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে কাজ করে, তখন স্বচ্ছতা হারায় এবং সাধারণ নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা সংকটে পড়ে।
এ অবস্থার প্রতিকার একমাত্র সুসংগঠিত ব্যবস্থা ও সচেতন জনগণ। প্রশাসনকে অবশ্যই স্বায়ত্তশাসিত ও পক্ষপাতমুক্ত হতে হবে। রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল, জনকল্যাণমুখী ও নৈতিকভাবে শুদ্ধ হতে হবে। এবং জনগণকে সক্রিয় ও সচেতন হতে হবে—তাদের ভোট, মতামত ও অধিকার যেন দূর্ণীতি বা ক্ষমতার খেলায় নষ্ট না হয়।
শেষ প্রশ্ন রয়ে যায়—এই দৌরাত্ম্য ও ক্ষমতার খেলায় কেউ কি সত্যিই জয়ী হবে? ক্ষমতাশালী নেতা নাকি জনগণ? বাস্তবতা হলো, যদি জনগণ তাদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করতে সচেতন না হয়, তাহলে দূর্ণীতি ও ক্ষমতার দৌরাত্ম্যই চিরকাল জয়ী হবে, আর সাধারণ মানুষ থেকে যাবে হারিয়ে যাওয়ার পথে।
সমাজের অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে, দূর্ণীতি ও ক্ষমতার অযৌক্তিক প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিটি মানুষকে তার দায়িত্ব ও শক্তি ব্যবহার করতে হবে। ন্যায়ের জয়, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ কেবল তখনই সম্ভব হবে।

Leave a Reply