মনজুরুল ইসলাম,মাসান টিভি
সরকারি কর্মচারী নিয়োগে প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; এটি একটি সংগঠিত, দীর্ঘদিনের চক্রের ফল। বারবার একই কায়দায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, একই অজুহাতে তদন্ত, আর শেষ পর্যন্ত দায়ীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ার দৃশ্য—সব মিলিয়ে এটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর অশনিসংকেত।
প্রশ্নপত্র ফাঁস কেবল পরীক্ষার স্বচ্ছতাকেই ধ্বংস করে না, এটি যোগ্যতা ও মেধাকে অপমান করে, তরুণ সমাজকে হতাশ করে এবং প্রশাসনের ভিতকে দুর্বল করে দেয়। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—এই অপরাধ বারবার ঘটছে, অথচ কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে উঠছে না। এর অর্থ, প্রচলিত আইন ও প্রয়োগব্যবস্থা অপর্যাপ্ত, কিংবা প্রয়োগে অনীহা ও দুর্বলতা রয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো যে শুধু বাইরের দালালদের নিয়ে গঠিত তা নয়; অনেক ক্ষেত্রেই ভেতরের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা ছাড়া এমন অপরাধ সম্ভব নয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যায়, তদন্তের গতি ধীর, বিচার দীর্ঘসূত্রতা আর শাস্তির দৃষ্টান্ত বিরল। ফলে অপরাধীরা বারবার সাহস পায়, আর চক্রটি আরও বিস্তৃত হয়।
এ অবস্থায় সময় এসেছে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে রাষ্ট্রবিরোধী গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আরও কঠিন আইন প্রণয়ন করা জরুরি। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, ন্যূনতম শাস্তির সীমা নির্ধারণ, সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ এবং আজীবন সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞার মতো বিধান যুক্ত না হলে এই অপরাধ থামানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরিবহনে বহুমাত্রিক নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা। যে সরকারের আমলে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে, কার্যকর প্রতিরোধে ব্যর্থ হলে দায়ভার তাকেই নিতে হবে—এটাই গণতান্ত্রিক শাসনের ন্যূনতম শর্ত। দায় স্বীকার ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছাড়া জনআস্থা ফিরবে না।
যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক শর্ত। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর আইন, দৃঢ় প্রয়োগ এবং নিঃশর্ত জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

Leave a Reply