ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনে বেড়েছে ভোগের আকাঙ্ক্ষা। লোভ, লালসা আর বিলাসিতার প্রতিযোগিতায় মানুষ আজ নিজেকেই হারিয়ে ফেলছে। এই আত্মবিস্মৃত সময়ে নীরবে কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে মানবিকতার পক্ষে কথা বলছেন কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ডিপেরহাট এলাকার পল্লী চিকিৎসক বজলার রহমান।
তার ভাষায়,
“লোভ মানুষকে তার নৈতিক কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেয়। লালসা মানুষকে অন্ধ করে, আর বিলাসিতা মানুষকে শূন্য করে তোলে। এর পরিণতি অবশ্যম্ভাবীভাবে হয় দুর্গতি ও অশান্তি।”
পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক হলেও মানুষের শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি তিনি দেখছেন আত্মিক ক্ষয়। তাই চিকিৎসার ফাঁকে ফাঁকে, হাট-বাজার, চায়ের দোকান কিংবা পথচারীদের সঙ্গে আলাপে তিনি তুলে ধরছেন সংযম, ত্যাগ ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দর্শন। তার মতে, প্রকৃত শান্তি বাহ্যিক ভোগে নয়, বরং অন্তরের পরিশুদ্ধতায় নিহিত।
স্থানীয়রা জানান, তার কথাগুলো উপদেশের মতো নয়—বরং আত্মজিজ্ঞাসার দরজা খুলে দেয়। একজন প্রবীণ গ্রামবাসী বলেন, “আজকের দিনে কেউ সহজ ভাষায় জীবনের কঠিন সত্যগুলো বললে মানুষ থমকে দাঁড়ায়। বজলার রহমান ঠিক সেটাই করছেন।”
বজলার রহমান মনে করেন, সমাজে অস্থিরতা, পারিবারিক ভাঙন, অপরাধ ও হতাশার মূল উৎস নিয়ন্ত্রণহীন আকাঙ্ক্ষা। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই তিনি মানুষকে কমে সন্তুষ্ট থাকা, অন্যায় থেকে বিরত থাকা এবং মানবিক সম্পর্ককে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তার এই নীরব কিন্তু গভীর প্রয়াস সমাজের বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে। কারণ, যখন শব্দের চেয়ে অর্থ বড় হয়, আর প্রচারের চেয়ে উপলব্ধি গভীর হয়—তখনই বদলের বীজ বপন হয় মানুষের অন্তরে।


Leave a Reply