হোম / কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম

খনিজ বালু রক্ষায় ব্রহ্মপুত্র নদে অবাধ বালু উত্তোলন বন্ধের জোর দাবি

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:১১ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৪৭৫২ বার


আনোয়ারুল ইসলাম জুয়েল, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :
পতিত আওয়ামী সরকারের সময় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও দলীয়করণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধ ও অবাধ বালু উত্তোলন চিলমারী এলাকায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর ফলে দিন দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশে সঞ্চিত বিপুল পরিমাণ মূল্যবান খনিজ বালুর মজুদ। উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালিয়ে উত্তোলনকারীদের গ্রেপ্তার, যানবাহন জব্দ ও জরিমানা করলেও প্রভাবশালী একটি মহলের দৌরাত্ম্যে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের পর ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় খনিজ অনুসন্ধানে পরিচালিত এক গবেষণায় চিলমারীর রমনা, জোড়গাছ, ব্যাঙমারা, রাজারভিটা, কাচকোল, ফকিরেরহাট ও অষ্টমীরচরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মাত্র ১০ মিটার গভীরেই বিপুল খনিজ বালুর সম্ভাবনার তথ্য উঠে আসে। গবেষণা প্রতিবেদনে নদীর বালুতে ইউরেনিয়াম, ইলমেনাইট, রুটাইল, জিরকন, ম্যাগনেটাইট, গারনেট ও কোয়ার্টজসহ অন্তত ৮টি মূল্যবান খনিজ পদার্থের অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। সে সময় “চিলমারীতে হিরার খনির সন্ধান” শিরোনামে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলেও আজ পর্যন্ত গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফল জনসম্মুখে আসেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনাহীন ও অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে খনিজ মিশ্রিত এই মূল্যবান সম্পদ নামমাত্র দামে বিক্রি করা হচ্ছে, যা একদিকে নদীভাঙন বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় সম্পদের অপচয় ঘটাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত উপায়ে এসব খনিজ আহরণ করা গেলে টাইটানিয়াম শিল্প, সিরামিক, কাচ, রং ও ওয়েল্ডিং রডসহ বিভিন্ন শিল্পখাতে বড় অবদান রাখতে পারে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। খনিজসম্পদ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা অবশ্যই পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।”
এদিকে সচেতন মহল অবিলম্বে ব্রহ্মপুত্র নদে অবাধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে খনিজ বালুর মজুদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!