লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (১৫ বিজিবি) অভিযানে ভারতীয় জিরা ও শাল-চাদরসহ কাভার্ড ভ্যান জব্দ করেছে। ওই কাভার্ড ভ্যান লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ দুই দফস তল্লাশি করে অজ্ঞাত কারনে ছেড়ে দিয়েছে।
১৫ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর রাত ১০ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি কাভার্ড ভ্যান লালমনিরহাটের সোহরাওয়ার্দী মাঠ এলাকা থেকে জব্দ করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ভ্যানের ভেতর থেকে ২ হাজার ৫১১ কেজি ভারতীয় জিরা ও ১৮০টি ভারতীয় শাল-চাদর উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৮ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
তবে জানা গেছে, বিজিবির অভিযানের আগে গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী এলাকায় এ. জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের ওই কাভার্ড ভ্যানটি সদর থানা পুলিশের হাতে আটক হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এএসআই আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্যানটি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে কোনো অবৈধ পণ্য না পাওয়ায় গাড়িটি জব্দ করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে কোনো কাগজপত্র নেই থানা পুলিশের নিকট। এদিকে গাড়িটি থানায় না এনে শহরের আলোরূপা মোড় এলাকায় একটি গোপন স্থানে রাখা হয়।
পরদিন বুধবার(২৪ ডিসেম্বর) রাত নয়টার দিকে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একই কাভার্ড ভ্যানটি আলোমোড় এলাকা থেকে উদ্ধার করে তল্লাশি চালায়। ডিবি পুলিশের দাবি, কাভার্ড ভ্যানের ভিতরে থাকা ভারতীয় জিরার আমদানি ও আদালত হতে নিলামে গ্রহণের কাগজপত্র প্রদর্শনের পর ভ্যানটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করে এবং তল্লাশি চালিয়ে ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করে।
কুড়িগ্রামের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই গাড়িতে ভারতীয় জিরা ও শাল চাদরের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিক্স সামগ্রীও ছিল। তবে বিজিবির তল্লাশিতে কেবল জিরা ও শাল চাদরই পাওয়া গেছে।
কুড়িগ্রাম শহরের জিয়া বাজার এলাকার কসমেটিক্স ব্যবসায়ী মারুফ হোসেন বলেন, ওই গাড়িতে আমার প্রায় এক লাখ টাকার কসমেটিক্স সামগ্রী ছিল। আমার মতো আরও ৮–১০ জন ব্যবসায়ীর পণ্য ছিল সেখানে। আমি ছোট ব্যবসায়ী, তবে অন্যরা বড় ব্যবসায়ী। গাড়িটি আটক হওয়ার পর আমি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি তবে বড় ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করেছিলেন।
একই এলাকার মসলা ব্যবসায়ী তানভির হোসেন বলেন, আটক গাড়িতে আমার ভারতীয় জিরা ছিল। এগুলো আমি বিভিন্ন আমদানিকারকের কাছ থেকে কিনে বৈধভাবে ঢাকায় পাঠাচ্ছিলাম। তবে গাড়িতে থাকা কসমেটিক্স কিংবা শাল চাদরের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।
এ.জে. আর কুরিয়ার সার্ভিসের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ম্যানেজার উজ্জ্বলের মোবাইল ফোন দিনভর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
লালমনিরহাট সদর থানার এএসআই আক্তার হোসেন বলেন, গাড়িটি আটকের পর থানায় এনে তল্লাশি করেছি তবে তল্লাশি করে কোনো অবৈধ পণ্য পাইনি। ওসি স্যারের নির্দেশে প্রায় তিন ঘণ্টা পর গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। গাড়িতে ভারতীয় জিরা, শাল চাদর কিংবা কসমেটিক্স দেখিনি। বিজিবি কসমেটিক পায়নি, সড়িয়ে নেওয়া হয়েছে, গাড়িতে কসমেটিক ছিলো কিনা? এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যায় এএসআই আখতারুজ্জামান।
তবে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, গাড়িটি থানায় আনা হয়নি। থানার বাইরে তল্লাশি করে অবৈধ কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি- এমন তথ্য জানানো হলে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার, আসাদুজ্জামান বলেন, ২৩ ডিসেম্বর আমি ঢাকায় ছিলাম। আমাদের কনফারেন্স ছিলো। গতকাল(২৪ ডিসেম্বর) লালমনিরহাট এসে থানা পুলিশ ও ডিবির তল্লাশির বিষয়টি শুনেছি। এরই মধ্যে তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের জন্য বলেছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। কোনো পুলিশ সদস্যের গাফলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, চোরাচালান দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এসব অপরাধ দমনে বিজিবি নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply