হোম / জাতীয়
জাতীয়

জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী-অভিভাবক

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:০১ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ২২৭৩ বার

আনোয়ারুল ইসলাম জুয়েল, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা নিয়েই চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের খালেদা–শওকত পাটোয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের তিনটি শ্রেণিকক্ষের ছাদ ও দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে। বৃষ্টির সময় ছাদ ফেটে পানি চুইয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যায়। ঝুঁকি বিবেচনায় ওই ভবনে বর্তমানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। তুলনামূলক ভালো অবস্থায় থাকা অপর একটি ভবনে তিনটি শ্রেণিকক্ষ থাকলেও সেখানে শিক্ষকগণের লাইব্রেরি রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে মাত্র দুইটি শ্রেণিকক্ষে গত এক বছর ধরে শিফট করে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চালানো হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছালমা বেগম জানান, ছয়জন শিক্ষক ও ১৫৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চরম সংকটের মধ্যেই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আসছেন।

গত বুধবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুটি শ্রেণিকক্ষে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে হলেও শিক্ষার্থীরা আগ্রহের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা নতুন ও নিরাপদ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানায়।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন,
“শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকট ও জীর্ণ ভবনের ঝুঁকির কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করতে পারে না। নতুন ভবনের ব্যবস্থা হলে এখানকার শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়বে।”

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে খালেদা–শওকত পাটোয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন বহুতল ভবন নির্মাণে সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান বলেন,
“বিদ্যালয়টির সমস্যার বিষয়টি আমরা অবগত। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে আবেদন করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, পতিত সরকারের আমলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলীর গাফিলতির কারণে তা ফেরত পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সচেতন মহল মনে করেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে দ্রুত বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ, শিক্ষার্থীসংখ্যা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ, নিবিড় তদারকি ও শক্তিশালী মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। পাশাপাশি চরাঞ্চলের শিক্ষকদের যাতায়াত ও আবাসন সুবিধা, নিরাপদ নৌযান ব্যবস্থা এবং টেকসই চর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!