হোম / কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম

৮ বছর ধরে তেলশূন্য চিলমারীর ভাসমান তেল ডিপো, সেচ সংকটে কৃষি খাত

প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৩৩১ বার


আনোয়ারুল ইসলাম জুয়েল, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে অবস্থিত যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের দুটি ভাসমান তেল ডিপো প্রায় আট বছর ধরে তেলশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকায় ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষি ও সেচ কার্যক্রমে। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে চিলমারীতে স্থাপিত এই দুটি ভাসমান তেল ডিপো দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, জামালপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ করে আসছিল। ডিপো দুটির অনুমোদিত ২২ জন ডিলার সরকারি নির্ধারিত দরে তেল সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সরবরাহ করতেন। তবে ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি যমুনা অয়েল কোম্পানি এবং ২২ ফেব্রুয়ারি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপোতে তেল শেষ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত সেখানে নতুন করে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
ডিপো দু’টি থেকে চিলমারী, উলিপুর, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, রৌমারী, রাজিবপুর, সাহেবের আলগা, যাত্রাপুর, দাদভাঙ্গা, কামারজানি, সানন্দবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী জেলা রংপুর, লালমনিরহাট, জামালপুর ও শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সেচ মৌসুমে নিয়মিত তেল সরবরাহ হতো। এই অঞ্চলে ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ড্রেজার, ট্রাক্টর, জেনারেটর, মাহেন্দ্র গাড়ি, নছিমন-করিমনসহ নানা যন্ত্র পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। চর ও কাইম এলাকায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে জমি চাষ ও সেচে অতিরিক্ত প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার লিটার তেলের চাহিদা রয়েছে।
ডিপো বন্ধ থাকায় ডিলাররা এখন রংপুরের পার্বতীপুর ডিপো থেকে তেল আনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খোলা বাজারে তেলের দাম সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষক সুজা মিয়া জানান, আগে ভাসমান ডিপো থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল পাওয়া যেত, এখন অতিরিক্ত দামে তেল কিনে সেচ দিতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিপো ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ভাসমান ডিপোটি স্থায়ী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) একটি টিম দুই বছর আগে পরিদর্শন করলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ জাকির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা কমে যাওয়ায় তেলবাহী জাহাজ আসতে না পারায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গ ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল হক জানান, ভাসমান ডিপো চালুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক বরাবর একাধিকবার চিঠি দিলেও অজ্ঞাত কারণে এখনো তেল সরবরাহ শুরু হয়নি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ডিপো চালু না হলে শ্রমিক ও কৃষকদের নিয়ে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
এদিকে, ডিপো চালু না হলে আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতেই এই অঞ্চলে বড় ধরনের জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!