হোম / আইন ও পরামর্শ
আইন ও পরামর্শ

সত্যের পথে অবিচল এক বাতিঘর: দৈনিক প্রথম আলোর কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি মতলেবুর রহমান সফি খান

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ১১৭ বার
দৈনিক প্রথম আলোর কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি মতলেবুর রহমান সফি খান
দৈনিক প্রথম আলোর কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি মতলেবুর রহমান সফি খান

কুড়িগ্রাম জেলার সাংবাদিকতার অঙ্গনে যে ক’জন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নীরবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থের পক্ষে কাজ করে চলেছেন—দৈনিক প্রথম আলোর কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি মতলেবুর রহমান সফি খান তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। সময়ের স্রোতে সাংবাদিকতার ধরন বদলালেও তার সাংবাদিকতা বদলায়নি—তিনি ছিলেন এবং আছেন নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ কারণেই তিনি আজ কেবল একজন সংবাদকর্মী নন; তিনি কুড়িগ্রামের সাংবাদিকদের কাছে এক বাতিঘর

দীর্ঘ পথচলায় তিনি সংবাদকে দেখেছেন মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ বাস্তবতা হিসেবে। বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্তি, সীমান্তঘেঁষা জেলার উন্নয়ন-বঞ্চনা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের সংকট, প্রশাসনিক জবাবদিহি, দুর্নীতি ও অনিয়ম—এসব ইস্যু তার প্রতিবেদনে নিয়মিত ও দায়িত্বশীলভাবে উঠে এসেছে। sensationalism নয়, তথ্যভিত্তিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই ছিল তার কাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

দৈনিক প্রথম আলোর মতো জাতীয় দৈনিকে জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন মানে শুধু খবর পাঠানো নয়; এটি এক ধরনের আস্থা ও দায়বদ্ধতার পরীক্ষা। মতলেবুর রহমান সফি খান সেই পরীক্ষায় বরাবরই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তথ্য যাচাই, বহু সূত্রে নিশ্চিতকরণ, ভাষার সংযম ও প্রেক্ষাপটের ভারসাম্য—এই পেশাদার মানদণ্ড তিনি কখনো ছাড় দেননি। ফলে তার প্রতিবেদন পাঠকের আস্থা অর্জন করেছে, নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রেখেছে।

তার আরেকটি বড় অবদান—নবীন সাংবাদিকদের গড়ে তোলা। মাঠে কাজ করতে গিয়ে তিনি তরুণদের হাতে-কলমে শিখিয়েছেন রিপোর্টিংয়ের নীতিমালা, নৈতিকতার সীমারেখা ও সাংবাদিকতার ঝুঁকি সামলানোর কৌশল। কোথাও বিভ্রান্তি দেখলে তিনি সংশোধন করেছেন অভিভাবকের মতো, আবার সঠিক পথে চললে উৎসাহ দিয়েছেন সহযোদ্ধার মতো। এই মানবিক নেতৃত্বই তাকে কেবল ‘সিনিয়র’ নয়, ‘আদর্শ’ করে তুলেছে।

আজকের সময়ে যখন ভুয়া পরিচয়ধারী তথাকথিত সাংবাদিকতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপতথ্য ও হলুদ সাংবাদিকতা পেশার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে, তখন মতলেবুর রহমান সফি খানের মতো সাংবাদিকরা স্মরণ করিয়ে দেন—সাংবাদিকতা আসলে কী হওয়া উচিত। ক্ষমতার কাছে প্রশ্ন তোলা, দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনস্বার্থে আপসহীন থাকা—এই তিনটি স্তম্ভেই দাঁড়িয়ে আছে তার কর্মজীবন।

বয়স ও অভিজ্ঞতার ভারে হয়তো তার কাজের গতি আগের মতো নয়, কিন্তু তার প্রভাব আজও প্রবল। কুড়িগ্রামের সাংবাদিকতা যে আজও বহু ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও মানবিক—তার পেছনে মতলেবুর রহমান সফি খানের মতো প্রবীণ সাংবাদিকদের অবদান অনস্বীকার্য।

মাসান টিভির এই সম্পাদকীয় কলামের মাধ্যমে আমরা দৈনিক প্রথম আলোর কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি, প্রবীণ সাংবাদিক মতলেবুর রহমান সফি খানকে গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তিনি সত্যিই একজন “সাংবাদিকদের বাতিঘর”—যার আলো পথ দেখায়, বিবেক জাগায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সততার সাহস জোগায়।আমি নিজেকে ধন্য মনে করি এই মহান মানুষ আমার সাংবাদিকতার গুরু।

*** লেখক: সাংবাদিক,প্রাবন্ধিক,মহাকাল গবেষক,মানবাধিকার কর্মী।।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!