মনজুরুল ইসলাম
একটি নির্বাচন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা জনতার সামনে দৃশ্যমান থাকে। আর সেই দৃশ্যমানতার প্রধান বাহক হলো স্বাধীন গণমাধ্যম। কিন্তু আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিধিনিষেধ স্পষ্ট করে দিয়েছে—এ নির্বাচন স্বচ্ছতার জন্য নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত নীরবতার জন্য পরিকল্পিত।
ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা কোনো প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নয়; এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যার লক্ষ্য ক্যামেরা বন্ধ রাখা, কণ্ঠ রোধ করা এবং সত্যকে অদৃশ্য করা।
আজকের যুগে সাংবাদিকতার অস্ত্র কলম নয়—মোবাইল ফোন।
এই ফোন দিয়েই—
ভোট কারচুপি ধরা পড়ে,
কেন্দ্র দখলের চিত্র উঠে আসে,
ভয়ভীতি ও জাল ভোটের প্রমাণ জনসমক্ষে আসে।
সেই অস্ত্র কেড়ে নেওয়া মানে সাংবাদিককে পঙ্গু করা।
আর পঙ্গু সাংবাদিক মানেই—নির্বাচনের অন্ধকারে রাষ্ট্রীয় বৈধতার নাটক।
নির্বাচন কমিশন কি মনে করে, সত্য মোবাইল ফোনেই লুকিয়ে থাকে?
নাকি তারা জানে—সত্য প্রকাশ পেলেই এই নির্বাচন প্রশ্নের মুখে পড়বে?
এই নির্দেশনা প্রমাণ করে, কমিশন আর সাংবিধানিক রক্ষকের ভূমিকায় নেই; বরং ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার নিরাপত্তা প্রহরীতে পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে নির্বাচন “সুষ্ঠু” প্রমাণের চেষ্টা ইতিহাসে নতুন নয়, কিন্তু তা কখনোই গণতন্ত্র সৃষ্টি করেনি—শুধু সংকটই জন্ম দিয়েছে।
এই অবস্থায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিক মানে—
নিজের পেশাগত মর্যাদা বিসর্জন দেওয়া,
সেন্সরশিপকে স্বেচ্ছায় বৈধতা দেওয়া,
একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনকে উপস্থিতি দিয়ে সিলমোহর দেওয়া।
সাংবাদিকতা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি দায়িত্ব।
আর যেখানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই, সেখানে উপস্থিতি অপরাধের অংশীদারত্বে পরিণত হয়।
অতএব, এই নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিক সমাজের সামনে আর কোনো নৈতিক দ্বিধা নেই।
যে নির্বাচনে চোখ বেঁধে যেতে বলা হয়, সে নির্বাচন দেখতে যাওয়ার দায় সাংবাদিকদের নেই।
এই নির্বাচন বর্জন এখন কোনো প্রতিবাদ নয়—
এটি সাংবাদিকতার আত্মমর্যাদা রক্ষার শেষ সীমারেখা।
লেখক: সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, মহাকাল গবেষক, সমাজ সংস্কারক, মানবাধিকার কর্মী।
আইন ও পরামর্শ
সংবাদমাধ্যমকে অন্ধ করার আয়োজনএই নির্বাচন বর্জনই সাংবাদিকদের একমাত্র সম্মানজনক অবস্থান
প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ণ
পড়া হয়েছে: ১২১ বার
বিজ্ঞাপন

Leave a Reply