হোম / কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম

রোগী নেই, তবু পূর্ণমাত্রায় বিল উত্তোলনবাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাগজে-কলমে সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগ

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৫ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৭৩ বার


রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সেবাদানকারী এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি যেন অব্যবস্থাপনা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে বলা হয়, হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা ও অভিভাবক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল উত্তোলন, ঘুষ বাণিজ্য এবং দায়িত্বে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত থেকে সেবা নিশ্চিত করার পরিবর্তে তিনি অধিকাংশ সময় বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশন ও ব্যক্তিগত চেম্বারে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় অনুপস্থিতির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি স্থানীয়দের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের রোগীদের খাবার (ডায়েট) বরাদ্দে ভয়াবহ অনিয়ম চলছে। বাস্তবে রোগী না থাকলেও কাগজে-কলমে ভুয়া রোগীর নাম দেখিয়ে নিয়মিত ডায়েট বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পুরুষ ওয়ার্ডে একদিনে মাত্র একজন রোগী ভর্তি থাকলেও নথিপত্রে ১৫ থেকে ২০ জন রোগীর খাবারের বিল দেখানো হয়েছে—এমন তথ্যও সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিদিনের ভর্তি ও ডিসচার্জ রেজিস্টার, ডায়েট বিলের ভাউচার এবং হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলে তথাকথিত ‘ভূতুড়ে রোগী’র প্রকৃত চিত্র সহজেই বেরিয়ে আসবে।
ডা. আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে হাসপাতালের কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। একাধিক নারী কর্মচারী অভিযোগ করেছেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি অনুমোদনের জন্য ঘুষ দাবি করা হয়। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে ছুটি মঞ্জুর না করে নানা অজুহাতে বিলম্ব করা হয় এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে নাম বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান।
এছাড়াও হাসপাতাল চত্বরে দালাল চক্রের অবাধ তৎপরতায় রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা নিয়মিত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দালাল চক্রের সঙ্গে হাসপাতালের একটি অংশের পরোক্ষ যোগসাজশ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা ও উপহার গ্রহণের বিনিময়ে রোগীদের নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, হাসপাতালের সিসি ক্যামেরা, ভর্তি-ডিসচার্জ রেজিস্টার, ডায়েট বিল সংক্রান্ত ভাউচার ও অন্যান্য নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হলে দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
এ বিষয়ে জানতে ডা. আসাদুজ্জামান আসাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম বলেন,
“বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংক্রান্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, দুর্নীতির এই সিন্ডিকেট ভেঙে জনস্বাস্থ্য সেবা রক্ষায় স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বাঘা উপজেলার সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের আশঙ্কা, যথাযথ তদন্ত ছাড়া অভিযোগগুলো চাপা দিলে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!