হোম / জাতীয় সংসদ নির্বাচন
জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ভোটের আগে-পরে পাঁচ দিন বিশেষ মোতায়েন, মাঠে থাকবে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ পড়া হয়েছে: ১৫৫ বার


নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটের আগে ও পরে মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন বিশেষভাবে মাঠে থাকবেন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ভোটের আগের তিন দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরদিন—মোট ৯ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে বিশেষ মোতায়েন কার্যকর থাকবে।
গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করে এ কর্মপরিকল্পনার কথা জানায়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও উৎসবমুখর করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা অত্যাবশ্যক। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর যে মোতায়েন বর্তমানে চলছে, তা নির্বাচনকালীন সময়েও বহাল থাকবে। সরকার সামরিক বাহিনীকে দেওয়া ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
ইসি জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বাভাবিক মোতায়েনের পাশাপাশি নির্বাচনকালীন বিশেষ মোতায়েন কার্যকর হবে ভোটের তিন দিন আগে থেকে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ছাড়া পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী পাঁচ দিন মাঠে থাকবে। তবে আনসার সদস্যদের মোতায়েন থাকবে ছয় দিন—ভোটের আগের চার দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরদিন।
পরিপত্রে কোন বাহিনীর কত সদস্য মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ‘লিড মন্ত্রণালয়’ হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা, সমন্বয় ও তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অস্ত্রের ব্যবহার রোধ, নির্বাচন বিঘ্নকারী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্যতা অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও মাঠে ব্যবহৃত বডি-ওর্ন ক্যামেরার ‘লাইভ ফিড’ নির্বাচন কমিশনের সমন্বয় সেলে প্রদর্শনের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইসি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সব বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশনে আইনশৃঙ্খলা ও অপতথ্য মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। এই সেল ভোটের আগের চার দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দুই দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
ইসি সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মাঠে থাকবেন, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে রেকর্ডসংখ্যক দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সারা দেশে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এসব কার্যালয়ে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও নির্বাচনী মালামালের নিরাপত্তা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিদেশি গণমাধ্যমের জন্য আগামী ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন আহ্বান করেছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি, আর আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!