হোম / অপরাধ
অপরাধ

ভুরুঙ্গামারীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী অপহরণের অভিযোগ৪ দিন পেরিয়েও উদ্ধার হয়নি কিশোরী, মামলা রেকর্ড না হওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ৩৩ বার


নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলা-এ মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ধার হয়নি ওই কিশোরী। এদিকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড না হওয়ায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
জানা গেছে, গত ১৯ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে উপজেলার বাগভান্ডার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অপহৃত শিক্ষার্থীর বাবা মোঃ আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ভুরুঙ্গামারী থানা-এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অপহৃত কিশোরী ভুরুঙ্গামারী মহিলা দাখিল মাদরাসা-এর শিক্ষার্থী। বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় কামাত আঙ্গারীয়া এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মোঃ শাকিল হোসেন (২০) তাকে উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি পরিবারকে জানালে মেয়ের বাবা অভিযুক্তের পরিবারকে অবহিত করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাকিল ও তার পরিবারের সদস্যরা কিশোরীকে অপহরণ এবং খুন-জখমের হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে গত ১৯ মে সকালে ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে শাকিল হোসেন, মোঃ শাহাদৎ হোসেন (১৯) ও আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘ সময় বাড়িতে ফিরে না আসায় তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ লিটন মিয়া (৩৫) ও মোঃ রিয়াজুল ইসলাম (৪০)-এর মাধ্যমে জানতে পারেন, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক কিশোরীকে তুলে নিয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত শাকিলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,
“সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও মেয়ের সন্ধান পাইনি। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি। আমি আমার মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে চাই এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে ভুরুঙ্গামারী থানা-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আজিম উদ্দিন জানান, অপহরণের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে এখনো কিশোরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড করা হয়নি।”
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!