হোম / অপরাধ
অপরাধ

ভুরুঙ্গামারীতে দোলপূজার বিরোধে সংঘর্ষ: ৫ জন হাসপাতালে, ৪০ লাখ টাকা ছিনতাই ও স্বর্ণ লুটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশ: ৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ পড়া হয়েছে: ১৮৭ বার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সদর বাজারের বানিয়া পট্টি এলাকায় দোলপূজাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই ঘটনায় একপক্ষের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ছিনতাই এবং অপর পক্ষের বিরুদ্ধে দোকান ভাঙচুর ও ১২ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগে থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আঙ্গারিয়া গ্রামের তরনী কান্ত করের ছেলে ও মাহবুব ক্লিনিকের ম্যানেজার শ্রী তাপস কর বাড়ি থেকে ক্লিনিকে যাওয়ার পথে বানিয়া পট্টি এলাকায় পৌঁছালে তাকে আটকে ফেলে প্রতিপক্ষের লোকজন। অভিযোগ রয়েছে, কামাত আঙ্গারিয়া গ্রামের মৃত বার্মা প্রসাদের ছেলে গোপাল চন্দ্র প্রসাদ (৪৫), কৃষ্ণ চন্দ্র প্রসাদ (৫০), গণেশ চন্দ্র প্রসাদ (৩৮) এবং বাগভান্ডার গ্রামের কার্তিক চন্দ্র সাহাসহ ৫/৭ জন তাকে জোরপূর্বক একটি গলিতে নিয়ে মারধর করে।

এ সময় তাপস করের মোটরসাইকেলে থাকা ক্লিনিকের স্টাফ ও চিকিৎসকদের বেতন বাবদ প্রায় ৪০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে তাপস করের স্বজন ও ক্লিনিকের কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে তাপস করসহ সুশান্ত রায় (৪৫), সুকুমার রায় (৩২), পরিতোষ রায় (৩২) এবং অপর পক্ষের কৃষ্ণ চন্দ্র প্রসাদ আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এদিকে ঘটনার পর গোপাল চন্দ্র প্রসাদ বাদী হয়ে তাপস করসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তার জুয়েলারি দোকান ভাঙচুর ও ১২ ভরি স্বর্ণ লুটের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে তাপস করও গোপাল চন্দ্র প্রসাদসহ ৫/৭ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ৪০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে পৃথক মামলা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, মূল বিরোধের সূত্রপাত গত মার্চ মাসে দোলযাত্রা পূজার সময় আঙ্গারিয়া গ্রামের দেবোত্তর চতুর্ভুজ নারায়ণ মন্দির প্রাঙ্গণে দুই কিশোরের নাচানাচি ও রঙ খেলা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডা থেকে। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মারপিটের ঘটনা ঘটে এবং মন্দির কমিটির উদ্যোগে বিচার বসার কথা থাকলেও অভিযুক্ত পক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে।

পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের স্থানীয় নেতারা উদ্যোগ নিলেও নির্ধারিত দিনে বিচার বসা সম্ভব হয়নি। এরই জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং সর্বশেষ এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, বর্তমানে বিষয়টি আপোষ মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (চলতি দায়িত্ব) এসআই আহসান হাবীব জানান, “দুই পক্ষই থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”

বিজ্ঞাপন

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!