খায়রুল বাশার, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য এখন ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে থানাকেন্দ্রিক নানা অপতৎপরতায় জড়িয়ে পড়া এসব ভুয়া পরিচয়ধারীর কারণে পেশাদার সাংবাদিকতা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। অবিলম্বে এদের সনাক্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে—এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোনো ধরনের সাংবাদিকতা বিষয়ক শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ কিংবা স্বীকৃত গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছাড়াই এক শ্রেণির ব্যক্তি গলায় ভুয়া পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছে। এদের অনেকের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি, অবৈধ সুবিধা আদায় এবং প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।
ভুয়া সাংবাদিকতার আড়ালে সংঘটিত এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সাংবাদিক সমাজের মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছেও গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি এখন আর উপেক্ষার সুযোগ নেই। অবিলম্বে ভুয়া সাংবাদিকদের সনাক্তে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা, থানায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সাংবাদিক পরিচয়ের কঠোর যাচাই, এবং অপরাধে জড়িত ভুয়া পরিচয়ধারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য একটি কেন্দ্রীয়, যাচাইযোগ্য ও ডিজিটাল পরিচয়পদ্ধতি চালু করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি জাতীয় সাংবাদিক যাচাই নীতিমালা প্রণয়ন করে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যথায় ভুয়া সাংবাদিকতার এই বিষবৃক্ষ আরও বিস্তৃত হয়ে রাষ্ট্র, প্রশাসন ও গণমাধ্যম—তিনটির জন্যই মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও পেশাদার সাংবাদিকরা।
অপরাধ
ভুয়া সাংবাদিক শনাক্তে জরুরি সরকারি হস্তক্ষেপ দাবিকঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান
প্রকাশ: ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ণ
পড়া হয়েছে: ১২০ বার
বিজ্ঞাপন

Leave a Reply